কালিগঞ্জে বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল গফফারকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন

Feb 22, 2026 - 21:26
 0
কালিগঞ্জে বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল গফফারকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন
বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল গফফারের মরদেহে ফুলেল শ্রদ্ধা জানান উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভুমি) মাইনুল ইসলাম খান, ইনসেটে আব্দুল গফফার এর ফাইল ছবি

বিশেষ প্রতিনিধি: সাতক্ষীরার কালিগঞ্জে বীর মুক্তিযোদ্ধা ও অবসরপ্রাপ্ত সেনা সদস্য আব্দুল গফফার (৭৬) ইন্তেকাল করেছেন (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। তিনি উপজেলার মথুরেশপুর ইউনিয়নের শীতলপুর গ্রামের মরহুম ইমান আলী গাজীর ছেলে ও কালিগঞ্জ ফুলতলা মোড়ে অবস্থিত সৈনিক হোটেলের স্বত্ত্বাধিকারী। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, ২ ছেলে, ৭ মেয়েসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল গফফার বেশ কয়েকদিন ধরে বুকে ব্যাথা অনুভব করলে প্রথমে ঢাকা সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে চিকিৎসা শেষে তিনি সুস্হ হয়ে বাড়িতে ফিরছিলেন। সর্বশেষ শনিবার দুপুরের দিকে পুনরায় বুকে ব্যথা ও শ্বাসকষ্ট দেখা দিলে আব্দুল গফফারকে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত দেড়টার দিকে তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি ) জোহরের নামাজের পর উপজেলা পরিষদ মাঠে সহকারী কমিশনার (ভূমি) মইনুল ইসলাম খানের উপস্থিতিতে থানার অফিসার ইনচার্জ জুয়েল হোসেনের নেতৃত্বে সাতক্ষীরা জেলা পুলিশের একটি দল রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় গার্ড অব অনার প্রদান করেন। এছাড়াও জেলা সশস্ত্র বাহিনী বোর্ডের পক্ষ থেকে পাউখালি সেনা ক্যাম্পের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট আব্দুল কাদিরের নেতৃত্বে একটি সেনাদল এই বীর মুক্তিযোদ্ধার প্রতি সালাম ও সম্মান প্রদর্শন করেন।
এ সময় কালিগঞ্জ মুক্তিযোদ্ধা সংসদের আহ্বায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব শেখ আব্দুর রউফ সাবেক সহকারী কমান্ডার এস এম শাহাদাত হোসেন ও শেখ মনির হোসেন, বীর মুক্তিযোদ্ধা শেখ নূর মোহাম্মদ, শেখ নূর আলী, শেখ মতলুবর রহমানসহ বীর মুক্তিযোদ্ধা ও মুসল্লীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

জানাজা শেষে বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল গফফারকে মহৎপুর সরকারি গোরস্থানে দাফন করা হয়।
বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল গফফারের মৃত্যুতে কালিগঞ্জ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ও সন্তান কমান্ড গভীর শোক জ্ঞাপন এবং শোক সন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন।

প্রসঙ্গত, বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল গফফার ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধে ভারতের হিঙ্গলগঞ্জসহ টাকি,,পিপা ও বিহার ক্যাম্পে প্রশিক্ষণ শেষে দেশে ফিরে বসন্তপুর ও ৯ নম্বর সেক্টরের অধীনে যুদ্ধকালীন কমান্ডার আবাদুর রহমানের নেতৃত্বে সাতক্ষীরার উজিরপুর, আশাশুনিসহ বিভিন্ন সম্মুখ যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন।
তিনি ১৯৭২ সালে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে সেনা সদস্য হিসেবে চাকরিতে যোগদান করেন এবং সফলতার সাথে চাকুরী শেষ করে ১৯৯২ সালে ল্যান্স কর্পোরাল হিসেবে অবসর গ্রহণ করেন।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow