রোজার শুরুতেই সৈয়দপুরে লেবু, কলা ও খেজুরের দামে আগুন
মিজানুর রহমান মিলন, নীলফামারী জেলা প্রতিনিধি : নীলফামারীর সৈয়দপুরে রোজার শুরুতেই হঠাৎ করে ইফতার সামগ্রীর দাম অস্বাভাবিক বৃদ্ধি পেয়েছে। বাজারে খোলা খেজুর (বস্তাজাত ), কলা ও লেবুর দাম অতিমাত্রায় বেড়ে গেছে। এর মধ্যে খোলা খেজুর ও কলা চড়া মূল্যে বিক্রি হচ্ছে।
অথচ যা ৭দিন আগেও স্বাভাবিক দাম বেচাবিক্রি হলেও গত শনিবার ও আজ রবিবার শহরের বাজার ঘুরে মূল্য বৃদ্ধির এমন চিত্র দেখা গেছে।
ক্রেতাদের অভিযোগ, রোজা উপলক্ষে অসাধু ব্যবসায়ীরা অধিক মুনাফা লুটতে ইফতার সামগ্রীর মূল্য বৃদ্ধি করেছে। তারা বাজার নিয়ন্ত্রণ রাখতে বাজার মনিটরিং কমিটির তৎপরতা শুরুর দাবি জানান । তবে ব্যবসায়ীরা বলছেন খেজুর, লেবু ও কলার আমদানি কম থাকায় এসব পণ্যের মূল্য বেড়েছে। তাদের দাবি আমদানি বাড়লে দাম কমে যাবে। কিন্তু ব্যবসায়ীদের এমন কথায় আস্থা পাচ্ছেন না ভোক্তারা।
পৌর সবজি বাজার ঘুরে দেখা গেছে, আকারভেদে এক হালি লেবুর দাম চাওয়া হচ্ছে ৪০ থেকে ৫০ টাকা। ফলে দাম নিয়ে ক্রেতা ও বিক্রেতাদের মাঝে বাকবিতন্ডাও হচ্ছে। যা রোজার ২দিন আগেও প্রতি হালি ২০/২৫ টাকা বিক্রি হয়েছে। তবে দাম বাড়ার যুক্তি হিসেবে ফলন ও আমদানি কমে যাওয়ার কথা বলছেন বিক্রেতারা।
খুচরা সবজি বাজারে ছোট আকারের পাতিলেবুর হালি চাওয়া হচ্ছে ৪০ টাকা। মাঝারি আকৃতির হালি চাইছেন ৫০ টাকা পর্যন্ত। আর বড় লেবুর হালি চাওয়া হচ্ছে ৬০ টাকা।
দাম বাড়ার কারণ জানতে চাইলে, পৌর সবজি বাজারের ব্যবসায়ী মো. জয়নাল বলেন, রোজার কারণে লেবুর চাহিদা অনেকগুণ বেড়ে যায়। কিন্তু চাহিদা মত সরবরাহে না থাকায় লেবু বিক্রি হচ্ছে বাড়তি দামে। এই ব্যবসায়ী আরও বলেন, দাম নিয়ে প্রতিদিনই কাস্টমারের সঙ্গে ঝগড়া, কথা কাটাকাটি করতে হচ্ছে। আমদানি বাড়লে দাম কিছুটা কমবে।
বাজারে লেবু কিনতে আসা গৃহিনী সুলতানা বলেন, গত দু'দিন আগেও বাজারে যে লেবুর হালি বিক্রি হয়েছে ২০ টাকায়, সেই লেবু এখন বিক্রি হচ্ছে ৪০ থেকে ৫০ টাকায়। তাই লেবু না কিনেই বাড়ি ফিরছেন তিনি।
এদিকে গত দুই সপ্তাহের ব্যবধানে সৌদি আরব, মিশর, ইরানসহ বিভিন্ন দেশ থেকে আমদানি করা খেজুরের দামও বেড়েছে অস্বাভাবিক। মানভেদে বিভিন্ন খেজুর কেজি প্রতি বেড়েছে ৪০ থেকে ৫০/৬০ টাকায়। সবচেয়ে বেশি বেড়েছে বস্তাজাত খোলা খেজুর। যা ১৫ দিন আগেও বিক্রি হয়েছে ১৬০/১৭০ টাকা কেজি দরে। অথচ সেই খেজুর খুচরা বাজারে বিক্রি হচ্ছে ২২০ থেকে ২৪০ টাকা কেজি।
খুচরা বাজারের ফল বিক্রেতা মো. রুবেল বলেন, পাইকারি বাজারে বাড়তি দামে খেজুর কিনতে হচ্ছে। তারা দাম কমালে ,আমরাও কম মূল্যে বিক্রি করতে পারবো।
এ ব্যাপারে কথা হয় ফলের আমদানিকারক বিসমিল্লাহ ফল ভান্ডারের মালিক বাদশা মিয়ার সঙ্গে। তিনি ফলের দাম স্বাভাবিক দাবি করে বলেন, বস্তাজাত খোলা খেজুরের আমদানি কম থাকায় দাম একটু বাড়তি ছিল, এখন সব খেজুরের আমদানি বেড়েছে, দাম দ্রুতই স্বাভাবিক হয়ে আসবে।
অপরদিকে ইফতারের প্রয়োজনীয় কলার বাজারে দামে আগুন লেগেছে। রোজার দু দিন আগে আকার ভেদে প্রতি হালি কলার দাম ২০ থেকে ৪০ টাকা বেড়েছে।
মালভোগ কলা ২০- ৩০ টাকা থেকে বেড়ে ৫০- ৬০ টাকা হালি বিক্রি হচ্ছে। ৪০ টাকার নিচে কোন কলাই পাওয়া যাচ্ছে না। চিনি চাম্পা কলার ক্ষেত্রে একই অবস্থা। রোজার আগে ১০/১৫ টাকা হালিতে বিক্রি হলেও এখন সেই কলা ৩০ টাকা হালির নিচে মিলছে না।
রেল কারখানার অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারি আব্দুল জলিল বলেন, কলা কিনতে এসে দেখি আকাশচুম্বী দাম। তাই ৪০ টাকায় ছোট সাইজের এক হালি কলা নিয়ে বাড়ি ফিরছি।
এ ব্যাপারে পাইকারি কলা ব্যবসায়ী শাহিন বলেন, আশেপাশের জেলাগুলোতে কলার বাগান থেকে কলা কাটা শুরু হয়নি। তাই কলার মোকাম সাতক্ষীরা, মেহেরপুর, চুয়াডাঙ্গা জেলা থেকে কলা আনতে হচ্ছে, কিন্তু সেখানেও সরবরাহ কম। বাগান থেকে যতটুকু কলা কাটা হয়, তার বেশিরভাগই ঢাকার মহাজনরা কিনে নেয়। ফলে দাম সেখানেই বেশি। এ কারণে বেশি দামে কলা কিনতে হচ্ছে। গাড়ি ভাড়া,অন্যান্য খরচও রয়েছে। স্থানীয় বাগান থেকে কলা কাটা শুরু হলে দান কমে আসবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
What's Your Reaction?