সৈয়দপুর পৌরসভায় জোরেশোরে চলছে উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ
মিজানুর রহমান মিলন, সৈয়দপুর থেকে : সৈয়দপুর পৌরসভার নাগরিক সেবার মানবৃদ্ধি ও বর্জ্যমুক্ত স্বাস্থ্যকর পরিবেশ নিশ্চিতে বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ জোরেশোরে চলছে। এছাড়া জলাবদ্ধতা নিরসন ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়নসহ শহরের বর্জ্য অপসারনে ১৫টি ওয়ার্ডে চলছে নানা কর্মযজ্ঞ।
সৈয়দপুর পৌর প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারাহ ফাতিহা তাকলিমার নির্দেশে প্রকল্প সমূহ বাস্তবায়ন করছে পৌর প্রকৌশল বিভাগ। এমনকি পৌর প্রশাসক নিজেও বিভিন্ন প্রকল্প এলাকা নিয়মিত পরিদর্শন করছেন।
পরিদর্শনকালে প্রকল্পের রাস্তা, ড্রেন, কালভার্ট নির্মাণ কাজের মান যাচাইয়ের সঙ্গে অসঙ্গতি থাকলে তা সংশোধন করার নির্দেশনা দিচ্ছেন। গত পরিদর্শনকালে বিভিন্ন প্রকল্পের কাজ প্রত্যক্ষ করে ওইসব নির্দেশনা দেন তিনি। এ সময় প্রকৌশলী ও ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধির সঙ্গে কথা বলে সময় মত কাজ শেষ করার তাগিদ দেন।
সূত্র জানায়, বিশ্বব্যাংক, বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি), কোভিড-১৯ এবং টিআর প্রকল্পের আওতায় শহরের প্রধান প্রধান সড়কসহ পাড়া মহল্লায় সড়ক নির্মাণ ও সংস্কার করা হচ্ছে।
এছাড়া বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতার ঝুঁকি কমাতে বানিজ্যিক ও আবাসিক এলাকায় ড্রেনে পানি প্রবাহ সচল করা হচ্ছে। ড্রেনে জমে থাকা ময়লা-আবর্জনা ও কাঁদামাটি অপসারণ করা হচ্ছে। এসব কাজ পুরোপুরি সম্পন্ন হলে নাগরিক সেবা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে সৈয়দপুর পৌরসভা অনেকখানি এগিয়ে যাবে বলে সুত্রটি জানায়।
পৌর এলাকার বিভিন্ন পাড়া মহল্লা ঘুরে দেখা গেছে, সেখানকার খানাখন্দ ভরা রাস্তাগুলো এখন আর নেই, শোভা পাচ্ছে বিটুমিনের পিচ ঢালা রাস্তা। শহরের দুইটি প্রধান সড়কের কাজও চলছে জোরেশোরে, সঙ্গে চলছে ড্রেন নির্মাণ কাজ ।
এছাড়া শহরের প্রবেশ পথে দৃষ্টিনন্দন অভ্যর্থনা গেট, সড়ক বাতি স্থাপন, ডাস্টবিন নির্মাণ, পথচারীদের চলাচলের জন্য পচালানা খালের ওপর স্টীলের ফুট ব্রিজ নির্মাণসহ অন্যান্য উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ চলছে। এসবের মধ্যে প্রায় ৩০ কোটি টাকা ব্যয়ে আরইউটিডিপি প্রকল্পের মাধ্যমে শহরের প্রধান দুটি সড়ক ও ড্রেন নির্মাণ এবং লাইট পোস্ট স্থাপনের কাজ হচ্ছে বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে এবং অন্যান্য উন্নয়নমূলক কাজের অর্থায়ন হয়েছে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি), কোভিড-১৯ ও টিআর প্রকল্পের বরাদ্দ থেকে। এতেও ব্যয় হয়েছে কয়েক কোটি টাকা।
সৈয়দপুর পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী শহিদুল ইসলাম, সহকারী প্রকৌশলী আব্দুল খালেক, মাসুম সাজ্জাদ জুয়েল, কামরুল ইসলামসহ পৌরসভার প্রকৌশল বিভাগের কর্মকর্তাদের তদারকিতে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানগুলো কাজ করছে।
পৌরসভার উন্নয়নমূলক কাজ প্রসঙ্গে সুধিজনরা বলেন, শহরের শেরে বাংলা সড়ক থেকে ওয়াপদা মোড় পর্যন্ত সাড়ে তিন কিলোমিটার রাস্তা এবং শহীদ তুলশীরাম সড়কের শহীদ জহুরুল হক সড়ক মোড় থেকে মিস্ত্রিপাড়া বাইপাস সড়কের বসুনিয়া মোড় পর্যন্ত সাড়ে তিন কিলোমিটার রাস্তাটি ছিল একেবারে চলাচল অযোগ্য। দীর্ঘ কয়েক বছর মানুষজন ছিল চরম ভোগান্তিতে। অবশেষে ওই সড়ক দুটির কাজ শুরু হওয়ায় শহরবাসী এখন স্বস্তিতে।
এছাড়া পৌর এলাকার বিভিন্ন পাড়া মহল্লার রাস্তাঘাট, ড্রেন নালা, ডাস্টবিন ছাড়াও বিভিন্ন উন্নয়ন কাজ হওয়ায় পৌরবাসীর দুর্ভোগ কমে এসেছে, বৃদ্ধি পেয়েছে নাগরিক সেবা।
এসব ধরে রাখতে পৌরসভার কর্মকর্তা ও কর্মচারিদের তৎপর হওয়ার তাগিদ দেন তারা।
এদিকে শহর পরিচ্ছন্ন বিভাগের কনজারভেন্সি ইন্সপেক্টর মো. মোকসেদ আলী বলেন, পৌর এলাকার প্রতিটি ওয়ার্ডকে পরিচ্ছন্ন রাখতে নিয়মিত ড্রেন পরিষ্কার ও সড়ক পরিচ্ছন্নতার কাজ করা হচ্ছে। পৌরসভার পক্ষ থেকে শতভাগ তদারকির মাধ্যমে কাজের অগ্রগতি পর্যবেক্ষণে রাখা হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, বর্ষা মৌসুমে সড়ক জলাবদ্ধতা মুক্ত রাখা ও স্বাস্থ্যকর পরিবেশ বজায় রাখতে সব রকম কাজ করা হচ্ছে।
একইসাথে শহরে ভারী যানবাহন চলাচল নিয়ন্ত্রণে ব্যারিকেড ব্যবস্থা নিয়মিত সচল রাখা, যানজট নিরসনে যৌথবাহিনীর সহায়তায় সড়কের ওপর বসানো দোকানপাটসহ ফুটপাত দখলমুক্ত করতে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা হয়েছে।
এ বিষয়ে পৌর প্রশাসক ফারাহ ফাতেহা তাকমিলা বলেন, নাগরিক সেবা বৃদ্ধির জন্য পৌর এলাকার রাস্তাঘাট, ড্রেন,নালা নির্মাণ ও সংস্কারসহ অন্যান্য উন্নয়ন কাজ ধারাবাহিকভাবে চলছে। পৌরবাসীর চলাচল স্বস্তিদায়ক ও দুষণমুক্ত পরিবেশ বজায় রাখতে পৌরসভার সব বিভাগকে সার্বক্ষণিক কাজ করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। নিজে প্রকল্প এলাকা পরিদর্শন করে নাগরিক সেবা নিশ্চিত করার চেষ্টা করছেন। নাগরিকদের পৌরসভা সংশ্লিষ্ট সনদসহ অন্যান্য বিষয়গুলো দ্রুত সময়ে সম্পন্ন করা হচ্ছে জানিয়ে পৌর প্রশাসক আরও বলেন, শহরকে পরিচ্ছন্ন রাখতে পৌরবাসীর সচেতনতা ও সহযোগিতা অত্যন্ত জরুরি। নাগরিকরা দায়িত্বশীল হলে পৌরসভার উদ্যোগ আরও সফল হবে। পরিচ্ছন্ন, বাসযোগ্য সৈয়দপুর গড়ে তোলাই প্রধান লক্ষ্য বলে উল্লেখ করেন তিনি।
What's Your Reaction?