ঘটনাস্থল সৈয়দপুর প্লাজা মার্কেট ৩০ মিনিটেই ৭০ লাখ টাকার মালামাল চুরি
মিজানুর রহমান মিলন, নীলফামারী জেলা প্রতিনিধি : নীলফামারীর সৈয়দপুরে সর্ববৃহৎ বাণিজ্যিক কেন্দ্র শহরের শেরে বাংলা সড়কস্থ সৈয়দপুর প্লাজা সুপার মার্কেটে দুর্ধর্ষ চুরির ঘটনা ঘটেছে। মাত্র ৩০ মিনিটেই ওই মার্কেটের দুটি দোকানের প্রায় ৭০ লাখ টাকার মোবাইল ফোন, স্বর্ণ-রূপার অলংকার ও নগদ টাকা নিয়ে গেছে একটি সংঘবদ্ধ চোর চক্র। মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ৮ টা থেকে ৯ টার মধ্যে ওই চুরির ঘটনা ঘটে। নিরাপত্তাবেষ্টিত মার্কেটে এমন চুরির ঘটনায় ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। চুরির এ ঘটনায় শহরবাসীর উত্তরাঞ্চলের বৃহৎ এ মার্কেটের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।
খবর পেয়ে থানার অফিসার ইনচার্জ রেজাউল করিম রেজাসহ সঙ্গীয় ফোর্স ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। তারা ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী ও অন্যান্যদের সাথে কথা বলেছেন। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ওই মার্কেটের দুই প্রহরীকে আটক করা হয়েছে।
মার্কেট ও আশেপাশের সিসি ক্যামেরার ফুটেজে দেখা গেছে, সকাল সাড়ে ৮ টার দিকে সৈয়দপুর প্লাজার প্রথম গেট দিয়ে কয়েকজন যুবক মাস্ক পরা অবস্থায় কাঁধে ব্যাগ নিয়ে মার্কেটে প্রবেশ করে। তাদের মধ্যে দু জন ইনফিনিক্স মোবাইল শো-রুমের সামনে অবস্থান নেয়। পরে তাদের ব্যাগ থেকে তালা কাটার কাঁচি বের করে। অপর দুজনকে মার্কেটের মূল গেটে অবস্থান নিয়ে পাহারা দিতে দেখা যায়। ওই মোবাইল শো-রুমের তালা কেটে ভেতরে ঢুকে ব্যাগে ভরে বিপুল পরিমাণ মূল্যবান মোবাইল ও নগদ টাকা নিয়ে বের হয়। পরে একই কায়দায় পাশের বিদ্যুৎ জুয়েলার্সে প্রবেশ করে বিপুল পরিমাণ স্বর্ণালংকার নিয়ে পালিয়ে যায় চোরেরা।
ইনফিনিক্স শো রুমের আহাদ জানান, সকাল সাড়ে ৯টার দিকে শো রুম খুলতে এসে দরজার তালা ভাঙা দেখতে পান তিনি। পরে ভেতরে ঢুকে দেখেন শোরুমে রাখা কোনো মোবাইল ফোন নেই। তিনি বলেন, বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করার জন্য সেখানে দেড় শতাধিক মোবাইল ফোন ছিল। এছাড়া কিছু নগদ টাকাও ছিল। সব মিলিয়ে প্রায় ৩০ থেকে ৩৫ লাখ টাকার মালামাল চুরি হয়েছে বলে জানান তিনি।
বিদ্যুৎ জুয়েলার্সের আসিফ খান টিপু বলেন, তাদের দোকানে খুচরা ও পাইকারি স্বর্ণ ও রূপার অলংকার বিক্রি করা হয়। সকালে এসে তিনি দেখেন দোকানের ভেতরের সবকিছু এলোমেলো অবস্থায় পড়ে রয়েছে। চোরেরা সোনা ও রূপার অলংকারসহ নগদ টাকা নিয়ে গেছে। এতে প্রায় ৩৫ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে জানান তিনি।
ব্যবসায়ীরা জানান, সৈয়দপুর প্লাজা সুপার মার্কেট উত্তরাঞ্চলের বৃহৎ মার্কেট । এখানে সহস্রাধিক দোকান রয়েছে। তাদের অভিযোগ মার্কেটের নিরাপত্তায় দিন-রাত একাধিক নিরাপত্তাকর্মী দায়িত্ব পালনের কথা থাকলেও নিরাপত্তা কর্মী রয়েছেন হাতে গোনা মাত্র ১২ জন। সকালে নিরাপত্তা কর্মীদের দায়িত্ব শুরু হয় ৭টার দিকে। এর মধ্যে সকাল সাড়ে ৮টার দিকে এমন বড় ধরনের চুরির ঘটনায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
এ ব্যাপারে ক্ষতিগ্রস্ত দুই ব্যবসায়ী থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
এদিকে মার্কেটের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে ব্যবসায়ীদের তোপের মুখে পড়েন সৈয়দপুর প্লাজা সুপার মার্কেটের প্রকল্প পরিচালক গোলজার আহমেদ। এসময় তিনি মার্কেটের পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেন, প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে ঘটনার সার্বিক তথ্য সংগ্রহ ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। একইসাথে দুই দিনের সময় নিয়ে ক্ষতির বিষয়ে সুষ্ঠু সমাধান করবেন বলে ব্যবসায়ীদের আশ্বস্ত করেন তিনি।
জানতে চাইলে সৈয়দপুর থানার অফিসার ইনচার্জ রেজাউল করিম রেজা বলেন, প্রাথমিকভাবে ঘটনাটি পরিকল্পিত বলে মনে হচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন এবং ঘটনার পরপরই তদন্ত শুরু হয়েছে। মালামাল উদ্ধার, চোরদের শনাক্ত ও গ্রেফতারে পুলিশ কাজ করছে। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বরং চুরি ছিনতাই মোকাবেলায় পুলিশের আলাদা একটি টিম কাজ করছে বলে জানান তিনি।
এদিকে, গত কয়েক মাস ধরে সৈয়দপুর শহরে ছোটখাটো চুরি ও মোবাইল ছিনতাইয়ের ঘটনা নিয়ে ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ ছিল। এবার শহরের সবচেয়ে নিরাপত্তাবেষ্টিত ও ব্যস্ততম মার্কেটগুলোর একটিতে একই সকালে পাশাপাশি দুটি দোকানে বড় ধরনের চুরির ঘটনায় সেই উদ্বেগ আরও বেড়েছে। ঘটনার পর ব্যবসায়ী মহল ও শহরজুড়ে নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে।
What's Your Reaction?