সৈয়দপুরে ইয়াবা ও মদ উদ্ধার, নারীসহ তিন মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার
মিজানুর রহমান মিলন, নীলফামারী জেলা প্রতিনিধি : সৈয়দপুরে পুলিশের পৃথক পৃথক মাদক বিরোধী অভিযানে ২৭০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট ও ৪ বোতল মদ উদ্ধার করা হয়েছে। এসময় নারীসহ তিন মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করেছে অভিযান পরিচালনাকারী দল।
সোমবার (৩ আগস্ট) রাতে শহরের বাঙালিপুরের হাজীনগর এলাকার বিসমিল্লাহ টাওয়ারের একটি ইউনিট এবং কাজীপাড়া পানির ট্যাংকির সামনে অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ ব্যাপারে থানায় মাদক নিয়ন্ত্রণ আইনে পৃথক দুটি মামলা দায়েরের পর আসামিদের মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) দুপুরে আদালতে প্রেরণ করা হয়। আদালত আসামিদের জামিন না মঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
পুলিশ জানায়, সোমবার (৩ আগস্ট) রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে থানা পুলিশের একটি দল বাঙালিপুর হাজীনগরস্থ বিসমিল্লাহ টাওয়ারের তৃতীয় তলার ৩০৫ নং ইউনিটে অভিযান পরিচালনা করে ওই ইউনিটের ভাড়াটিয়া মো. শামিম (৩১) ও তার স্ত্রী মোছা. আদরি আক্তারকে (২৭) গ্রেফতার করা হয়। এসময় মাদক ব্যবসায়ী শামিমের দেহ তল্লাশী করে তার পরনে থাকা প্যান্টের পকেট থেকে বিশেষ কায়দায় মোড়ানো ২৬৮ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। এছাড়া তার স্ত্রীর কাছ থেকে আরও ২ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, মাদক ব্যবসায়ী ওই দম্পতি দীর্ঘদিন থেকে সুকৌশলে মাদকের ব্যবসা করে আসছিল।
এরআগে শহরের কাজীপাড়া পানির ট্যাংকি এলাকায় অভিযান চালিয়ে চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী আতাউর রহমান কালুকে (৪৩) গ্রেফতার করে পুলিশ। এসময় তার কাছ থেকে কেরুস্ কেরু এন্ড কোম্পানির উৎপাদিত চার বোতল কেরু মদ সহ ১৫ পিস মদের খালি বোতল উদ্ধার করা হয়। গ্রেফতার কালু ওই এলাকার মৃত আলাউদ্দিনের পুত্র। সে পুলিশের চোখকে ফাঁকি দিয়ে দীর্ঘদিন থেকে মদসহ অন্যান্য মাদক বেচাকেনা করে আসছিল।
পুলিশের পৃথক পৃথক মাদক বিরোধী অভিযান পরিচালনা করেন সৈয়দপুর থানার উপ পরিদর্শক মনিরুজ্জামান, মো. আব্দুল মোমিনসহ অন্যান্য সঙ্গীয় ফোর্স। এ ব্যাপারে থানায় মামলার পর আসামীদের আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে সৈয়দপুর থানার অফিসার ইনচার্জ রেজাউল করিম রেজা বলেন, মাদকের বিরুদ্ধে পুলিশের শুন্য সহনশীলতা (জিরো টলারেন্স) বহাল রয়েছে। সৈয়দপুর থেকে মাদকের বিস্তার রোধে মাদক ব্যবসায়ী এবং মাদকসেবিদের আইনের আওতায় আনতে মাদক বিরোধী অভিযান আরও জেরদার করা হয়েছে।
তিনি বলেন, মাদক ব্যবসায়ী এবং তাদের সহায়তাকারী যতই প্রভাবশালী আর শক্তিশালী হোক না কেন, তাদের কাউকে ছাড় দেওয়া হবেনা।
উপজেলার প্রতিটি এলাকায় মাদক বিরোধী অভিযান সফল করতে পুলিশের নজরদারী বাড়ানো হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, যেখানেই মাদক সংক্রান্ত তথ্য মিলবে,সেখানেই অভিযান চালানো হবে। এজন্য সকলের সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।
What's Your Reaction?