কালিগঞ্জে শিক্ষকের ওপর হামলার প্রতিবাদে মানববন্ধন ও স্মারকলিপি প্রদান
বিশেষ প্রতিনিধি: সাতক্ষীরার কালিগঞ্জে সহকারী শিক্ষক আছিয়া পারভীনের ওপর হামলার প্রতিবাদে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। একই সঙ্গে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে জেলা প্রশাসকের নিকট স্মারকলিপি প্রদান করেছেন শিক্ষক নেতারা।রবিবার (০৮ মার্চ ২০২৬) সকালে কালিগঞ্জ উপজেলা পরিষদের সামনে বাংলাদেশ প্রাথমিক বিদ্যালয় সহকারী শিক্ষক সমিতি (রেজি: এস-১২০৬৮) কালিগঞ্জ উপজেলা শাখার উদ্যোগে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার মাধ্যমে সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি প্রদান করা হয়।
মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করেন, কালিগঞ্জ উপজেলার ৬৩ নং বেনাদোনা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আছিয়া পারভীন (আলো)-এর ওপর একই বিদ্যালয়ের ভুয়া জমিদাতা সদস্য পরিচয়দানকারী মো. আরিফুল ইসলাম (লিটু), পিতা-মাওলা বকস্ মোড়ল, সাং-সোতা,ইউনিয়ন-কৃষ্ণনগর কর্তৃক শারীরিক নির্যাতন, সরকারি কাজে বাধা প্রদান এবং প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়।
স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়, গত ৬ মে ২০২৫ তারিখে বিদ্যালয়ে চতুর্থ শ্রেণির চারুকারু বিষয়ে প্রান্তিক মূল্যায়ন চলাকালে অভিযুক্ত আরিফুল ইসলাম (লিটু) আকস্মিকভাবে বিদ্যালয়ে প্রবেশ করে পরীক্ষা বন্ধ করার হুমকি দেন। এ সময় সহকারী শিক্ষক আছিয়া পারভীন প্রতিবাদ করলে তার ওপর হামলা চালানো হয়। পরদিন ৭ মে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে কয়েকজন বহিরাগত ব্যক্তিকে নিয়ে আবারও বিদ্যালয়ে প্রবেশ করে পরীক্ষায় বাধা সৃষ্টি ও ওই শিক্ষককে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত ও মারধর করা হয় বলে অভিযোগ করা হয়। পরে অন্যান্য শিক্ষক ও অভিভাবকরা তাকে উদ্ধার করেন।
ঘটনার পর নিরাপত্তাজনিত কারণে গত ২১ অক্টোবর ২০২৫ তারিখে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারের ২১৬৮ নং স্মারক আদেশে শিক্ষক আছিয়া পারভীনকে একই উপজেলার ১১৭ নং পশ্চিম মৌতলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ডেপুটেশনে পাঠানো হয়। এতে তিনি চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন বলে দাবি করেন শিক্ষক নেতারা। দূরবর্তী বিদ্যালয়ে যাতায়াতের কষ্ট, নিরাপত্তাহীনতা এবং ছোট শিশু সন্তান দেখভালের সমস্যার কারণে তিনি মানসিক ও শারীরিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছেন বলেও স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়।মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, “একজন শিক্ষকের ওপর এ ধরনের বর্বরোচিত হামলা শুধু শিক্ষক সমাজের জন্যই নয়, সমগ্র জাতির জন্য লজ্জাজনক। জাতির ভবিষ্যৎ নির্মাতা শিক্ষকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের নৈতিক দায়িত্ব। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যদি শিক্ষকরা নিরাপদ না থাকেন, তবে শিক্ষার পরিবেশও হুমকির মুখে পড়বে।”
বক্তারা আরও বলেন, “ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।
পাশাপাশি নিরাপত্তাজনিত কারণে দেওয়া ডেপুটেশন আদেশ প্রত্যাহার করে ভুক্তভোগী শিক্ষককে পূর্বের কর্মস্থলে পুনর্বহাল করতে হবে।এসময় চার দফা দাবি উত্থাপন করা হয়। দাবিগুলো হলো— ঘটনার দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্ত করে দোষীদের শাস্তি নিশ্চিত করা, ২১৬৮ নং স্মারক আদেশ প্রত্যাহার করে শিক্ষক আছিয়া পারভীনকে পূর্বের বিদ্যালয়ে পুনর্বহাল করা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং শিক্ষকদের সুরক্ষায় পৃথক শিক্ষা সুরক্ষা আইন প্রণয়ন করা।
বাংলাদেশ প্রাথমিক বিদ্যালয় সহকারী শিক্ষক সমিতি কালিগঞ্জ উপজেলা শাখার ভারপ্রাপ্ত সভাপতি শাহিনা আক্তার চায়নার সভাপতিত্বে এবং বিশ্বনাথ অধিকারী শীলনের সঞ্চালনায় প্রতিবাদ সমাবেশে বক্তব্য রাখেন সমিতির সাবেক সভাপতি এস এম গোলাম রহমান, জেলা সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ আমির হোসেন মিঠু, শিক্ষক নেতা জাকিয়া সুলতানা, শহিদুল ইমরান, দেবদাস মন্ডল, দেবাশিষ অধিকারী, গোলাম মোস্তফাসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।মানববন্ধন শেষে শিক্ষক নেতারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার মাধ্যমে সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসকের নিকট স্মারকলিপি প্রদান করেন। এ সময় বক্তারা দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ না করা হলে শিক্ষক সমাজকে সঙ্গে নিয়ে বৃহত্তর আন্দোলন কর্মসূচি ঘোষণার হুঁশিয়ারি দেন।
What's Your Reaction?