সৈয়দপুরে বালু ও রং মিশ্রিত সাড়ে ৭শ' কেজি কীটনাশক উদ্ধার : ব্যবসায়ীর অর্থদণ্ড

Jun 5, 2026 - 20:18
 0
সৈয়দপুরে বালু ও রং মিশ্রিত সাড়ে ৭শ' কেজি কীটনাশক উদ্ধার : ব্যবসায়ীর অর্থদণ্ড

মিজানুর রহমান মিলন, নীলফামারী জেলা প্রতিনিধি : চিকন বালুতে রং মিশ্রিত ফিপ্রোনিল গ্রুপসহ বিভিন্ন কোম্পানির নামে তৈরী করা বিপুল পরিমান ভেজাল কীটনাশক উদ্ধার করেছে সৈয়দপুর উপজেলা কৃষি দপ্তর। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে ভেজাল কীটনাশক তৈরীর দায়ে প্রতিষ্ঠান মালিককে ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড এবং ওইসব কীটনাশক ধ্বংস করা হয়েছে। 

শুক্রবার দুপুর সাড়ে ১২ টার দিকে উপজেলার বোতলাগাড়ি ইউনিয়নের ৫ নং ওয়ার্ডের প্রামাণিক পাড়ার ফরিজ উদ্দিনের (৬২) বাড়ীতে অভিযান চালিয়ে সাড়ে ৭শত কেজি কীটনাশক ও অন্যান্য মামমাল উদ্ধার করা হয়।  

উপজেলা কৃষি অফিসের সুত্র জানায়, গোপন সংবাদে তারা জানতে পারেন, বোতলাগাড়ি ইউনিয়নের প্রামাণিক পাড়ায় ফরিজ উদ্দিনের ছেলে নুর ইসলাম (৪২) সহ পরিবারের সকলে বিভিন্ন কোম্পানির নামে ভেজাল কীটনাশক তৈরীর মাধ্যমে প্যাকেটজাত করে বাজারে সরবরাহ করে আসছে। 

এমন তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করতে বিভিন্ন পন্থা অবলম্বন করেন তারা। পরে ভেজাল কীটনাশক তৈরীর বিষয়টি হাতেনাতে ধরতে  উপ সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. ইমরান সরদার বোতলাগাড়ি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মনিরুজ্জামান জুনকে সাথে নিয়ে ফরিজ উদ্দিনের বাড়ীতে গিয়ে সেখানে শুধুমাত্র বালু ও রং মিশ্রিত ফিপ্রোনিল গ্রুপসহ বিভিন্ন কোম্পানির নামে তৈরী করা বিপুল পরিমাণ কীটনাশক ও অন্যান্য মালামাল দেখতে পান। সাথে সাথে খবর দেওয়া হয় উপজেলা প্রশাসনকে।

 খবর পেয়ে সৈয়দপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারাহ ফাতেহা তাকমিলার নেতৃত্বে সৈয়দপুর উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা এস এম আরেফিন বিন আমিন ও থানা পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে হাজির হয়। এসময় সেখানে বালু ও রং মিশিয়ে কীটনাশক তৈরী করা ১ কেজি ওজনের ৩৫০ প্যাকেট এবং খোলা ৪০০ কেজি কীটনাশক ও বিভিন্ন উপকরণ উদ্ধার করা হয়। 

সেখানে ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে ভেজাল  কীটনাশক ব্যবসায়ী নুর ইসলাম বাড়িতে না থাকায় তাঁর মা মোছা. সাজিদা বেগমকে ৫০ হাজার টাকা অর্থদন্ড করেন আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারাহ ফাতেহা তাকমিলা।

পরে উদ্ধার করা প্রতিটি এক কেজি ওজনের ৩৫০ প্যাকেট এবং খোলা ৪০০ কেজি ভেজাল কীটনাশক এবং অন্যান্য মালামাল ধ্বংস করা হয়। 

সৈয়দপুর উপজেলা উপ সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. ইমরান সরদার বলেন, ওই পরিবারের সকলে ভেজাল কীটনাশক তৈরী এবং বাজারজাত করছে এমন সংবাদ পেয়ে আমরা উৎপাদনকারী ওই ব্যবসায়ীর বাড়িতে অভিযান চালাই। এসময় তারা যাতে অবৈধপন্থা অবলম্বন না করতে পারে সেজন্য স্থানীয়দের সামনে ওইসব ভেজাল কীটনাশক ও অন্যান্য মালামাল নিজ হেফাজতে রাখা হয়। 

জানতে চাইলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ফারাহ ফাতেহা তাকমিলা বলেন,  ফরিজ উদ্দিনের পরিবারের সকলে ভেজাল কীটনাশক তৈরী ও বাজারজাতের সাথে জড়িত বলে অভিযুক্ত মোছা. সাজিদা বেগম স্বীকার করেন। পরে তাঁকে অর্থদন্ড করা হয়। একইসাথে ভবিষ্যতে এ ধরণের অন্যায় কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকতে সতর্ক করা হয়। 

এসময় অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বোতলাগাড়ি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মনিরুজ্জামান জুন,ইউপি সদস্য মহির উদ্দিন ও থানা পুলিশ সদস্যরা।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow