সৈয়দপুরে প্লাইউড কোম্পানির মালিকের উস্কানিতে শ্রমিকরা সড়কে : জনতার প্রতিরোধে ভেস্তে গেল অবরোধ
মিজানুর রহমান মিলন, নীলফামারী জেলা প্রতিনিধি : নীলফামারীর সৈয়দপুরে আহমেদ প্লাইউড কোম্পানির মালিক পক্ষের উস্কানিতে রংপুর-দিনাজপুর মহাসড়ক অবরোধ করে শ্রমিকরা। পরে স্থানীয় এলাকাবাসী ও আটকেপড়া শতশত যানবাহন - চালক-হেলপারের প্রতিরোধে ভেস্তে যায় জনভোগান্তির ষড়যন্ত্র মুলক এই কর্মসূচী। পরে থানা পুলিশের সহযোগিতায় দুই ঘন্টা পর ওই সড়কে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক হয়। গতকাল বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) দুপুরে কামারপুকুর ধলাগাছ এলাকায় এই ঘটনা ঘটেছে।
তবে মালিক পক্ষের দাবি কারখানার শ্রমিকরা নিজেদের স্বার্থে সড়কে নেমে বিক্ষোভ ও অবরোধ করে। এতে তাদের কোন হাত নেই।
জানা যায়, সৈয়দপুর - রংপুর মহাসড়কের পাশে কয়া গোলাহাট এলাকায় গড়ে ওঠা আহমেদ প্লাইউড কোম্পানির বিরুদ্ধে নানা অনিয়মের অভিযোগে বাংলাদেশ কাস্টমস ও ভ্যাট এক্সারসাইজ রংপুর আঞ্চলিক অফিস কর্তৃপক্ষ গত ৩ নভেম্বর আহমেদ প্লাইউড কোম্পানিতে ভ্যাট ট্যাক্স সংক্রান্ত বিষয়ে বিভিন্ন কাগজপত্র যাচাই করে। এক পর্যায়ে আরও যাচাই বাছাইয়ের জন্য সেখানকার প্রয়োজনীয় নথিপত্র ও ল্যাপটপ জব্দ করে নিয়ে যায়। এসময় সরকারি কাজে দায়িত্ব পালন করা অবস্থায় কাস্টমসের কর্মকর্তা ও কর্মচারিদের হেনস্তা করা হয় বলে অভিযোগ উঠে। এর প্রেক্ষিতে নিজেদের অপরাধ ঢাকতে শ্রমিকদের ব্যবহারের উদ্যোগ নেয় কোম্পানি কর্তৃপক্ষ।
এরই অংশ হিসেবে সকালের দিকে কয়েকজন গণমাধ্যম কর্মীদের নিয়ে সংবাদ সম্মেলনের পরেই কাস্টমস কর্তৃপক্ষের নিয়ে যাওয়া কাগজপত্র উদ্ধার না হলে বেতন দেওয়া সম্ভব হবেনা এমন কথা বুঝানো হয় শ্রমিকদের। তাই আন্দোলনের মাধ্যমে প্রশাসনকে বাধ্য করে জব্দকৃত কাগজপত্র ও ল্যাপটপ ফেরত আনতে হবে। এরপরেই শ্রমিকরা ফ্যাক্টরি থেকে বেরিয়ে গেটের সামনে রংপুর-দিনাজপুর মহাসড়কে বসে পড়ে। প্রায় ২ ঘন্টা ধরে তারা সড়ক অবরোধ করে রাখে। এসময় তারা বেতন পেতে নথিপত্র ফেরত দেওয়ার দাবি জানান। এসময় গণমাধ্যম কর্মীসহ স্থানীয়রা বেতনের জন্য মালিক পক্ষের কাছে দাবি না জানিয়ে সড়কে কেন জানতে চাইলে তারা বলেন কাগজপত্র না থাকায় বেতন দিতে পারছেন না বলে কর্তৃপক্ষ জানানোর কারণেই আমরা আন্দোলনে নেমেছি।
তাদের অবরোধের কারণে সড়কের উভয়পাশে কয়েক কিলোমিটার জুড়ে শতশত যানবাহন আটকা পড়ে। এসময় দুর্ভোগে পড়েন হাজার হাজার যাত্রী। খবর সৈয়দপুর থানা পুলিশ, পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়ন, বাস মিনিবাস মালিক সমিতির নেতৃবৃন্দ, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দসহ এলাকাবাসী শ্রমিকদের সড়ক থেকে সরে যাওয়ার আহবান জানায়। কিন্তু তারা তাদের অবস্থানে অটল থাকার জন্য পাঁয়তারা করলে এলাকাবাসী ও ভোগান্তির শিকার শত শত গাড়ির চালক ও হেলপার ঐক্যবদ্ধ শ্রমিকদের ডাকা এমন অবৈধ কর্মসূচির প্রতিবাদ জানান। এতে উভয় পক্ষের মধ্যে বাক বিতন্ডা হয়। এসময় এলাকাবাসী শ্রমিকদের বলেন, আপনারা বেতনের জন্য কারখানার অভ্যন্তরে আন্দোলন করুন। সড়ক অবরোধ করে সাধারণ মানুষকে দূর্ভোগে ফেলে সড়কে নেমে পরিস্থিতি উত্তপ্ত করার কোন অধিকার নেই।
স্থানীয়রা বলেন, প্রশাসন কোম্পানির অনিয়ম তদন্ত করতেই কাগজপত্র ও ল্যাপটপ নিয়ে গেছে। এটা যদি আইন বিরোধী হয় তাহলে মালিক যথাযথ পদক্ষেপ নিতে পারেন। কিন্তু তা না করে ঘটনা ভিন্ন খাতে প্রবাহের অপচেষ্টা করছে। তারা শ্রমিকদের সড়ক অবরোধ তুলে নেওয়ার আহবান জানালে তা না মানায় এলাকাবাসী ও শতশত যানবাহন চালক ও হেলপার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে একযোগে গাড়ি চালু করে এগিয়ে যায়। এমতাবস্থায় শ্রমিকরা ছত্রভঙ্গ হয়ে সড়ক থেকে সরে যায়।
এলাকার লোকজন সাংবাদিকদের বলেন, এই ফ্যাক্টরী আমাদের জমিতেই গড়ে উঠেছে। অথচ স্থানীয়দের এখানে কাজে নেওয়া হয়না। তাছাড়া শ্রমিকদের চরম অত্যাচার করে। ভ্যাট ট্যাক্স ফাঁকি দিতেই রাতের আঁধারে কাভার্ড ভ্যান ও ট্রাকে ভরে মালামাল সরানো হয়। এজন্যই কাস্টমস কাগজপত্র ও ল্যাপটপ জব্দ করেছে। আজ একইভাবে শ্রমিকদের উস্কে দিয়ে প্রশাসনের বিরুদ্ধে মিথ্যে অপপ্রচার চালাচ্ছে এবং হাজার হাজারো মানুষকে দূর্ভোগে ফেলেছে। পরে এলাকাবাসী ও থানা পুলিশের সহযোগিতায় সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
আহমেদ প্লাইউড কোম্পানির মহা ব্যবস্থাপক এ কে এম সাইফুল ইসলাম বলেন, আমরা শ্রমিকদের সড়কে নামাইনি। বরং কাস্টমস ইচ্ছেকৃতভাবে আমাদের উপর অন্যায় করেছে। মূলত: সরকারকে বিব্রত করতেই কাস্টমস এর ভেতরে থাকা সরকার বিরোধীরা এমন করেছে। এজন্য আমরা শ্রমিকদের বেতন দিতে পারছিনা। তাই শ্রমিকরা আন্দোলন করছে। কাস্টমসের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা না নিয়ে এভাবে শ্রমিকদের উস্কে দিয়েছেন কেন? জানতে চাইলে তিনি বলেন, সেটা তো অনেক সময়ের ব্যাপার।
What's Your Reaction?