সৈয়দপুর পৌরসভার উন্নয়নকাজ পরিদর্শনে বিশ্বব্যাংকের প্রতিনিধি দল : কাজের মানে সন্তোষ প্রকাশ

Oct 28, 2026 - 16:32
 0
সৈয়দপুর পৌরসভার উন্নয়নকাজ পরিদর্শনে বিশ্বব্যাংকের প্রতিনিধি দল : কাজের মানে সন্তোষ প্রকাশ

মিজানুর রহমান মিলন, নীলফামারী জেলা প্রতিনিধি : নীলফামারীর সৈয়দপুর পৌরসভার বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ পরিদর্শন করেছেন দাতাসংস্থা বিশ্বব্যাংকের কনসালটেন্ট টিমের সদস্যরা। পরিদর্শনকালে কাজের গুনগত মান দেখে সন্তোষ প্রকাশ করে ভবিষ্যতেও উন্নয়নমূলক কাজের গুনগত মান বজায় থাকবে বলে আশা তাদের।  

বুধবার (২৮ অক্টোবর) দুপুরে লোকাল গভর্মেন্ট কোভিড-১৯ রেসপন্স এন্ড রিকভারি প্রজেক্ট (এলজিসিআরআরপি) এলজিইডি প্রকল্পের আওতায় ১ কোটি ৩২ লাখ টাকা ব্যয়ে বাস্তবায়নাধীন শহরের শহীদ আমিনুল হক সড়কের সড়ক, ড্রেনের উন্নয়নকাজ পরিদর্শন করেন তাঁরা। এ সময় বিশ্বব্যাংকের প্রতিনিধি দলের স্পেশালিষ্টরা প্রকল্পের কাজের গুণগত মান পরীক্ষা করতে সড়কের বিভিন্ন অংশ খুড়ে পুরুত্বের পরিমাপ এবং ড্রেনের গভীরতা যাচাই করেন। তারা এসময় কাজের গুনগত মান দেখে পৌরসভার প্রকৌশল বিভাগের প্রকৌশলী ও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে ধন্যবাদ জানান। 

সুত্র জানায়, এলজিসিআরআরপি -এলজিইডি কোভিড- ১৯ প্রকল্পের আওতায় প্রায় ২৮ কোটি টাকা ব্যয়ে সৈয়দপুর পৌর এলাকার প্রতিটি ওয়ার্ডে রাস্তাঘাট ও ড্রেন, ডাস্টবিনসহ ২৭ টি প্যাকেজে উন্নয়নমূলক কাজ শুরু হয়। এর মধ্যে ২৬ প্যাকেজের কাজ এরআগে বাস্তবায়ন হয়েছে। সর্বশেষ ২৭ প্যাকেজের কাজ হচ্ছে শহীদ আমিনুল হক সড়কের ৯৩০ মিটার সড়ক ও ড্রেন নির্মাণ। 
২৭তম প্যাকেজের আওতায় বাস্তবায়নাধীন এ প্রকল্পে ব্যয় হচ্ছে ১ কোটি ৩২ লাখ টাকা। পৌরসভার প্রকৌশলীদের সার্বিক তত্বাবধানে উন্নয়নমূলক কাজটি বাস্তবায়ন করছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান নির্মাতা কুশলী।

পৌরসভার সুত্র জানায় এ প্রকল্পের কাজের গুনগত মান যাচাই করতেই বুধবার দুপুরে পরিদর্শনে আসেন বিশ্বব্যাংকের কনসালটেন্ট টিমের সদস্যরা।

তারা নতুন বাবুপাড়ার বিভিন্ন প্রকল্প এলাকায় যান। এ সময় প্রতিনিধি দলের সদস্যরা সড়কের ডব্লিউবিএম স্তরের পুরুত্ব ও ড্রেনের গভীরতাসহ বিভিন্ন কাজের পরিমাপ যাচাই করেন। এতে সড়কের নির্ধারিত ১০০ মিলিমিটার পুরুত্বের কথা শিডিউলে বলা থাকলেও সড়কের বিভিন্ন স্থানে ১০০ থেকে ১৫০ মিলিমিটার পর্যন্ত পুরুত্ব দেখতে পান তারা। এছাড়া ড্রেনের গভীরতা ও স্লাবের ক্ষেত্রেও একই অবস্থা দেখতে পেয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেন তারা।  

পরিদর্শনকালে বিশ্বব্যাংকের প্রতিনিধি দলের সদস্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন রিজিওনাল মিউনিসিপাল সাপোর্ট ইউনিট রংপুরের রিজিওনাল কো-অর্ডিনেটর মো. সাহিদুল ইসলাম সাচ্চু, রিজিওনাল সুপারভিশন ইঞ্জিনিয়ার মো. হায়দার আজম এবং ইনভারনমেন্টাল ও সেভগার্ড স্পেশালিস্ট মো. আব্দুল গাফ্ফার, সৈয়দপুর পৌরসভার সহকারী প্রকৌশলী আব্দুল খালেক, উপ সহকারী প্রকৌশলী মো. মাসুম সাজ্জাদ, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান নির্মাতা কুশলী'র প্রতিনিধি কামরুল হাসান কার্জনসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

প্রতিনিধি দলের সদস্য রিজিওনাল সুপারভিশন ইঞ্জিনিয়ার মো. হায়দার আজম বলেন, “আমরা প্রকল্প এলাকার কাজ পরিদর্শন করে গুণগত মান ও পরিমাপ সঠিক পেয়েছি। আমরা সন্তোষ্ট।বিষয়টি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি। তিনি বলেন, পৌরসভার প্রকৌশল বিভাগ ও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কাজের মান নিয়ে  আন্তরিকতার কমতি না থাকায় এটি সম্ভব হয়েছে। আমরা আশা করি, ভবিষ্যতে সৈয়দপুর পৌরসভায় আরও যেসব উন্নয়ন প্রকল্প আসবে সেগুলোও যথাযথ নিয়ম ও মান বজায় রেখে বাস্তবায়ন করা হবে।

এদিকে বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে শেরেবাংলা সড়কের তামান্না হল মোড় থেকে ওয়াপদা মোড় এবং শহীদ জহুরুল হক সড়ক (বিচালিহাটি মোড়) হয়ে বসুনিয়া মোড় পর্যন্ত সাত কিলোমিটার সড়ক নির্মাণ, ড্রেন ও ফুটপাতসহ সড়কবাতি স্থাপনের কাজ জোরেশোরে চলছে। এতে ব্যয় হবে প্রায় ২৬ কোটি টাকা। প্রকল্পের আওতায় মোট ৭ কিলোমিটার সড়কের মধ্যে ১ দশমিক ৬৫ কিলোমিটার আরসিসি এবং ৫ দশমিক ৩৫ কিলোমিটার কার্পেটিং করা হচ্ছে। পাশাপাশি নির্মিত হচ্ছে ফুটপাত ও ড্রেন এবং স্থাপন করা হবে  সড়কবাতি। আগামি বছরের জানুয়ারি মাসের মধ্যে এসব কাজ সম্পন্ন করা হবে বলে পৌরসভার সুত্র জানায়। 

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow