কালিগঞ্জে মসজিদের জমি নিয়ে বিরোধ, কমিটির দাবি-জমি দখলের চেষ্টা
বিশেষ প্রতিনিধি : সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার কৃষ্ণনগরে পিত্তিরাজতলা জামে মসজিদের জমি সংরক্ষণ ও চলাচলের পথ নিয়ে মসজিদ কমিটি ও স্থানীয় বাসিন্দা আলতাফ মোড়লের মধ্যে বিরোধ দেখা দিয়েছে। মসজিদ কমিটির দাবি, মসজিদের জায়গা দখল থেকে রক্ষা ও মসজিদের আদব-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে ঘেরা-বেড়া দেওয়া হয়েছে। তবে আলতাফ মোড়লের অভিযোগ, চলাচলের পথ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
মসজিদ কমিটির সভাপতি আব্দুল মজিদ বলেন, মসজিদের নামে মোট ১৬ শতাংশ জমি রয়েছে। এর অর্ধেকেরও বেশি বর্তমানে তাদের দখলে নেই। যে অংশটুকু দখলে রয়েছে, সেটুকুও পথের অজুহাতে আলতাফ মোড়ল দখলে নেওয়ার চেষ্টা করছেন বলে তিনি দাবি করেন।
তিনি বলেন, মসজিদ চত্বরের ভেতর দিয়ে অনিয়ন্ত্রিতভাবে চলাচলের কারণে মসজিদের আদব-শৃঙ্খলা ব্যাহত হচ্ছে। মসজিদের জায়গা সংরক্ষণ এবং মসজিদের পরিবেশের আদব রক্ষায় কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ঘেরা-বেড়া দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়। সে অনুযায়ী বেড়া দেওয়া হয়েছে। এ নিয়ে আলতাফ মোড়ল অহেতুক অভিযোগ ও অপপ্রচার চালিয়ে মসজিদ কমিটির সদস্যদের সম্মানহানি ছাড়া আর কিছুই পাবেন না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
মসজিদ কমিটির সহ-সভাপতি আসফারুকুজ্জামান ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক দন্ত চিকিৎসক ফারুক হোসেন বলেন, ইতিপূর্বে মসজিদের মাইক ও ব্যাটারি চুরির ঘটনা ঘটেছে। এছাড়া মসজিদের জায়গা দখলের উদ্দেশ্যে সাইনবোর্ড স্থাপনের ঘটনাও ঘটেছে বলে তারা দাবি করেন। এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে মসজিদ কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী জায়গা সংরক্ষণের উদ্যোগ ও ঘেরা-বেড়া দেওয়া হয়েছে।
তারা বলেন, আলতাফ মোড়ল প্রতিহিংসার বশবর্তী হয়ে আমাদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার এবং চলাচলের রাস্তা বন্ধের অভিযোগ তুলেছেন। তাদের দাবি, আলতাপ মোড়ল তাদের পূর্বপুরুষদের সময় থেকে যেভাবে চলাচলের পথ ব্যবহার করে আসছে, তা এখনও চলমান রয়েছে। এছাড়া পাড়ার ভেতর দিয়ে তাদের চলাচলের বিকল্প পথও রয়েছে।
তারা বলেন আলতাপ সম্পূর্ণ
উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে পথের অজুহাত দেখিয়ে সাধারণ মানুষের সহানুভূতি অর্জনের চেষ্টা করছে এবং এর মাধ্যমে মসজিদের জায়গা দখলের কৌশল নিয়েছে। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে মসজিদ কমিটির সদস্যদের চিহ্নিত করে চলাচলের পথ বন্ধের অভিযোগ প্রকাশিত হওয়ায় তারা ক্ষোব প্রকাশ করেন।
এদিকে, ঘেরা-বেড়া দেওয়ার আগে মসজিদ সংলগ্ন জায়গা নিয়ে উভয় পক্ষকে নিয়ে স্থানীয়ভাবে শালিস-মীমাংসার উদ্যোগ নেওয়া হয়। ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আল মাহমুদ ছোট্রু ও সাবেক ইউপি সদস্য নজরুল ইসলাম উভয় পক্ষকে নিয়ে বসেন। তারা জানান, কাগজপত্র অনুযায়ী মসজিদের ১৬ শতাংশ এবং আলতাফ মোড়লের ৭ দশমিক ৫ শতাংশ জমি রয়েছে। তবে উভয় পক্ষেরই কাগজপত্রে উল্লেখিত জমির তুলনায় বাস্তবে দখলে থাকা জমির পরিমাণ কম রয়েছে বলে তারা মন্তব্য করেন। উভয় পক্ষের বক্তব্য অনুযায়ী, মসজিদ কমিটি প্রায় ৭ শতাংশ এবং আলতাফ মোড়ল প্রায় ২ দশমিক ৫ শতাংশ জমি ভোগদখলে রয়েছেন। উভয়পক্ষের অবশিষ্ট জমি বেদখলে রয়েছে বলে মন্তব্য করেন তারা।
এসব বিষয় নিয়ে আলতাফ মোড়ল বলেন, তাদের চলাচলের রাস্তা অন্যের রেকর্ডীয় সম্পত্তির ওপর দিয়ে হওয়ায় চলাচলের পথ নির্বিঘ্ন রাখার জন্য তিনি ৭ দশমিক ৫ শতাংশ জমি মসজিদ আঙিনার ভেতর দিয়ে চৌহদ্দি করে মালিক পক্ষের কাছ থেকে কিনেছেন। ওই জায়গা দিয়ে তারা চলাচল করে আসছিলেন। কিন্তু মসজিদ কমিটির বেড়া দেওয়ার কারণে বর্তমানে ওই পথ দিয়ে চলাচল করা সম্ভব হচ্ছে না।
মসজিদের জমির মালিকানা, দখল এবং চলাচলের পথ নিয়ে দুই পক্ষের ভিন্ন ভিন্ন দাবি থাকায় বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়ভাবে বিরোধ সৃষ্টি হয়েছে। এ অবস্থায় সংশ্লিষ্ট কাগজপত্র যাচাই করে প্রকৃত মালিকানা ও চলাচলের অধিকারের বিষয়টি নির্ধারণের মাধ্যমে বিরোধের স্থায়ী সমাধানের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
What's Your Reaction?