কালিগঞ্জের ১৩৮ প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৯৮ টিতেই নেই প্রধান শিক্ষক
বিশেষ প্রতিনিধি : সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার, দাপ্তরিক কর্মচারী, প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষকের বিপুল সংখ্যক পদ শূন্য থাকায় সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলায় প্রাথমিক শিক্ষা কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। দ্রুত এই জনবল সংকট নিরসন করা না হলে উপজেলার প্রাথমিক শিক্ষাব্যবস্থা ভেঙে পড়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, কালিগঞ্জ উপজেলার ১২ইউনিয়নে মোট ১৩৮টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। ৬টি ক্লাস্টারে বিভক্ত এসব বিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম তদারকির জন্য ৬ জন সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারের পদ থাকলেও বর্তমানে কর্মরত আছেন মাত্র ৪ জন। ওই চারজনকেই সামলাতে হচ্ছে ১৩৮টি বিদ্যালয়ের পরিদর্শন ও তদারকি।
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি উপজেলা শিক্ষা অফিসেও তীব্র জনবল সংকট রয়েছে। কার্যালয়টিতে একজন উচ্চমান সহকারী, একজন হিসাব সহকারী, দুইজন অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর এবং একজন অফিস সহায়কের পদ রয়েছে। তবে বর্তমানে মাত্র একজন অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর ও একজন অফিস সহায়ক দিয়ে জোড়াতালি দিয়ে চলছে দাপ্তরিক কাজ। অফিসে কর্মরত একমাত্র অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটরের বিরুদ্ধেও রয়েছে দায়িত্ব পালনে অবহেলার অভিযোগ। ফলে প্রশাসনিক কাজ বিলম্বিত হচ্ছে এবং নানা হয়রানির শিকার হচ্ছেন শিক্ষকরা।
এদিকে ১৩৮টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৮৩১ জন সহকারী শিক্ষকের বিপরীতে কর্মরত আছেন ৭৭৩ জন। অর্থাৎ ৫৮টি সহকারী শিক্ষকের পদ শূন্য। এছাড়া ৯৮টি বিদ্যালয়ে কোনো প্রধান শিক্ষক নেই; সহকারী শিক্ষকদের দিয়ে চালানো হচ্ছে প্রশাসনিক কাজ। ফলে শ্রেণিকক্ষে পাঠদান ও বিদ্যালয়ের স্বাভাবিক তদারকি উভয়ই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক জানান, প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করতে যেয়ে বেড়েছে দাপ্তরিক কাজের চাপ। সে কারণে শ্রেণি কার্যক্রম ও পাঠদানে ঠিকমতো মনোনিবেশ করা সম্ভব হয় না। তাছাড়া শিক্ষক স্বল্পতার কারণেও পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে। এর প্রভাব পড়ছে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের ওপর।
স্থানীয় অভিভাবক ও ম্যানেজিং কমিটির কয়েকজন সদস্য জানান, বর্তমান সরকার প্রাথমিক শিক্ষাখাতের উন্নয়নে গুরুত্ব দিলেও অধিকাংশ বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক এবং কাম্য সংখ্যক সহকারী শিক্ষক না থাকায় প্রাথমিক শিক্ষাব্যবস্থা সংকটের মুখে পড়েছে। এ অচলাবস্থা নিরসনে জরুরি ভিত্তিতে ব্যবস্থা নেয়া প্রয়োজন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার দীপক কুমার বিশ্বাস জনবল সংকট ও পাঠদান ব্যাহত হওয়ার বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, “সমস্যাগুলোর বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে অবগত করা হয়েছে। আশা করছি দ্রুত সমাধান পাওয়া যাবে।”
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো. রুহুল আমীন জানান, শুন্যপদের তথ্য আমরা প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরে প্রেরণ করেছি। আগামী এক মাসের মধ্যে সহকারী শিক্ষকের শুন্যপদে নিয়োগ সম্পন্ন হবে। পর্যায়ক্রমে প্রধান শিক্ষক ও অন্যান্য পদের নিয়োগ প্রদান করা হবে বলে জানান তিনি।##
What's Your Reaction?