উৎপাদনে ফিরল যমুনা সার কারখানা
ন্যাশনাল ডেস্ক : দীর্ঘ ১৫ দিনের অপেক্ষার পর অবশেষে ইউরিয়া সার উৎপাদনে ফিরেছে জামালপুরের সরিষাবাড়ীর তারাকান্দিতে অবস্থিত যমুনা সার কারখানা (জেএফসিএল)। গ্যাস সরবরাহ পেলেও কাঙ্ক্ষিত চাপ না থাকায় এতদিন কারখানায় উৎপাদন বন্ধ ছিল।
বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশনের (বিসিআইসি) নিয়ন্ত্রণাধীন এ কারখানাটিতে সোমবার (৫ অক্টোবর) রাত ৩টা ১০ মিনিটে বাণিজ্যিকভাবে সার উৎপাদন শুরু হয়।
মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন যমুনা সার কারখানার উৎপাদন বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ফজলুল হক রতন।
কারখানা সূত্রে জানা যায়, যমুনা সার কারখানায় স্বাভাবিক উৎপাদন বজায় রাখতে দৈনিক প্রায় ৪২ থেকে ৪৩ এমএমসিএফ গ্যাসের প্রয়োজন। তবে নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী দৈনিক ১৭০০ মেট্রিক টন ইউরিয়া এবং ১০৭৮ মেট্রিক টন অ্যামোনিয়া উৎপাদনের জন্য গ্যাসের চাপ ৪৬ এমএমসিএফ থাকা জরুরি।
উল্লেখ্য, চরম গ্যাস সংকটের কারণে চলতি বছরের ১২ ফেব্রুয়ারি কারখানার উৎপাদন পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। দীর্ঘ ৭ মাস বন্ধ থাকার পর গত ২০ সেপ্টেম্বর দুপুরে পুনরায় গ্যাস সংযোগ দেওয়া হয়। তবে গ্যাসের প্রয়োজনীয় চাপ নিশ্চিতকরণ ও কারিগরি প্রস্তুতি সম্পন্ন করতে আরও ১৫ দিন সময় লাগে, যার ফলে সোমবার গভীর রাতে পূর্ণাঙ্গ উৎপাদনে যেতে সক্ষম হয় কারখানাটি।
১৯৯০ সালে প্রতিষ্ঠিত ঐতিহ্যবাহী এই কারখানাটিতে ১৯৯১ সাল থেকে বাণিজ্যিকভাবে ইউরিয়া উৎপাদন শুরু হয়। এখান থেকে জামালপুর, শেরপুর, ময়মনসিংহ, টাঙ্গাইল ও রাজবাড়ীসহ উত্তরাঞ্চলের মোট ২১টি জেলায় প্রয়োজনীয় ইউরিয়া সার সরবরাহ করা হয়ে থাকে।
এর আগেও কারখানাটিতে দীর্ঘমেয়াদি গ্যাস সংকট দেখা দিয়েছিল। ২০২৪ সালের ১৫ জানুয়ারি বন্ধ হওয়ার প্রায় ২২ মাস পর ২০২৫ সালের ২৩ নভেম্বর এটি গ্যাস সংযোগ পায়, যা আবার চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে বন্ধ হয়ে যায়।
এদিকে দীর্ঘদিন কারখানাটি বন্ধ থাকায় উত্তরাঞ্চলের কৃষি খাতে সার সরবরাহে অনিশ্চয়তার পাশাপাশি স্থানীয় পরিবহন খাত, ব্যবসা- বাণিজ্য ও শ্রমজীবী মানুষের আয়-রোজগারে স্থবিরতা তৈরি হয়েছিল। পুনরায় উৎপাদন শুরু হওয়ায় পুরো অঞ্চলে আবার কর্মচাঞ্চল্য ও স্বস্তি ফিরে এসেছে।
সার সরবরাহ ব্যবস্থা ও স্থানীয় অর্থনীতি সচল রাখতে কারখানায় স্থায়ীভাবে নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস সরবরাহ ও প্রয়োজনীয় চাপ নিশ্চিত করার জোর দাবি জানিয়েছেন জেএফসিএল-এর শ্রমিক-কর্মচারী ইউনিয়ন, সার ডিলার, পরিবহন মালিক-শ্রমিক এবং স্থানীয় কৃষকরা। সূত্র: কালবেলা
What's Your Reaction?