বিএম আলাউদ্দীন, আশাশুনি (সাতক্ষীরা): আশাশুনি উপজেলার ডাসেরআটি মৌজায় মৎস্য ঘের জবর দখলের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এব্যাপারে শ্রীউলা গ্রামের সোহরাব হোসেন গাজীর ছেলে নুর মোহাম্মদ বাদী হয়ে থানায় লিখিত অভিযোগ ও ইতিপূর্বে সাধিরণ ডায়েরী করেছে।
অভিযোগ, জিডি সূত্র ও নূর মোহাম্মদ জানান, বাদীর ডাসেরাটি মৌজায় পৈত্রিক, খরিদা, আপোষ এ্যাওয়াজ ও লীজ নিয়ে বর্তমানে ৭.০৩ একর জমিতে মৎস্য ঘের রয়েছে। তারা ১৯৯১ সালে ১০৫ বিঘা জমিতে মৎস্য চাষ করতেন। ২০০৬ সালে জমি ভাগ হয়ে গেলে তার অংশে ১৩ বিঘা পড়লেও ১০ বিঘার দখল পায়। ২০২১ সালে ডিসিআর বাদে ২১ বিঘা জমির বুঝ পেয়ে ভোগদখল করে আসছেন। ২০২৫ সালে ২১ বিঘার মধ্যে ৬ বিঘা জমি মেহদী হাসান রাজু জনৈক লিটুর কাছ থেকে ডিড নিয়েছেন বরে করে হারির টাকা দাবী করেন। পূর্ব থেকে ঘের সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে বাদী ও বাদীর পরিবারের সাথে শত্রুতা সৃষ্টি করে হয়রানী করতে থাকে। অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ ও মারধর করতে উদ্যত ও হুমকী দেয়। ২২ ফেব্রুয়ারী ঘেরে মটরে পানি উত্তোলনের সময় মারপিট করে রক্তাক্ত জখম করে। আহত অবস্থায় বাদীকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এব্যাপারে থানায় ২৭/২/২৬ তাং ১২৪৪ নং জিডি করা হয়। সবশেষ ৯ মার্চ সকাল ৭.৩০ টার দিকে রাজু, লোকমানসহ বিবাদীরা ভাড়াটিয়া লোকজন নিয়ে বাদীর মৎস্য ঘেরে অনাধিকার প্রবেশ করে ঘেরে পাটা বসিয়ে দেয়। ঘেরে বাদীর ৪২০০০ বাগদা রেনু পোনা ও ৩০০ পিচ মাছ ছাড়া রয়েছে। জবর দখল করতে থাকলে বাদী ৯৯৯ নম্বরে কল করলে থানা পুলিশ ঘটনাস্থানে যায়। ততক্ষণে জবর দখলকারী গা ঢাকা দেয়। আইনের আশ্রয় নিলে জীবন নাশের হুমকী ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করে।
এব্যাপারে বিবাদী মেহদী হাসান রাজু বলেন, আমার সেখানে ৪১ বিঘা জমি ডিড ছিল। ডাবলু মার্ডার হওয়ার পর আ'লীগ নেতা লাকীর সহযোগিতায় ঘেরটা টুকরো টুকরো করে ফেলে। আমরা সামছুল আলমকে পার্টনার নিয়ে ঘের পরিচালনা করতে থাকি। গত বছর কোর্টের মাধ্যমে সামছুল আলমের পার্টনারশীপ বাতিল করি। ২০২৫ সালে নূর মোহাম্মদ আমাদের হারির টাকা দিতে স্বীকার হলেও ৭২০০০ টাকা হারি দেয়নি। এবছরও টাকা না পেয়ে আমরা ঘের নিয়ে নিচ্ছি। নুর মোহাম্মদের ২ বিঘা জমি থাকতে পারে তার হারি বা সে চাইলে পৃথক করে নিতে পারে।