নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস : তৃণমূল থেকে ‘তারা’ উদয়ের স্বপ্ন
অনলাইন ডেস্ক: মাটির গভীরে যে বীজ ঘুমিয়ে থাকে, তা একদিন অঙ্কুরিত হয়ে সূর্যের দিকে মাথা তোলে। বাংলাদেশের প্রত্যন্ত গ্রামে অসংখ্য কিশোর-কিশোরী আজও লুকিয়ে আছে, যাদের বুকে জ্বলছে অদম্য স্বপ্নের আলো। তারা দৌড়ায়, লাফ দেয়, বল ছোড়ে; কিন্তু তাদের প্রতিভার কথা পৌঁছায় না সঠিক গন্তব্যে। এই অচেনা প্রতিভাদের সন্ধানেই এগিয়ে এসেছে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’—বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গনে একটি যুগান্তকারী উদ্যোগ।
‘নতুন কুঁড়ি’ শুধু একটি কার্যক্রম নয়, এটি স্বপ্নকে চূড়ান্ত রূপ দেওয়ার উদ্যোগ, একটি প্রতিশ্রুতির নাম। দশকের পর দশক ধরে এ অনুষ্ঠান ছিল প্রতিভার এক মহাতীর্থ। এখান থেকে বের হয়ে এসেছেন সংগীত, নৃত্য, আবৃত্তি, অভিনয়সহ বিচিত্র শিল্পকলার অসংখ্য দিকপাল। ‘নতুন কুঁড়ি’ ছিল সেই জাদুর জানালা, যার ভেতর দিয়ে তাকালে দেখা যেত আগামীর বাংলাদেশের মুখ। কিন্তু সময়ের ঘূর্ণনে সেই প্রদীপের শিখা নিভে গিয়েছিল। দীর্ঘ বিরতির পর বর্তমান সরকারের দূরদর্শী নেতৃত্বে সিদ্ধান্ত হয়েছে-এ মশাল আবার জ্বলবে। নতুন রূপে, নতুন প্রাণে। শুধু শিল্পকলা নয়, এবার ময়দানের মাটিতে পড়বে সেই আলো। জন্ম নিচ্ছে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’—যেখানে ক্রীড়াক্ষেত্রের অচেনা প্রতিভাগুলো পাবে তাদের প্রাপ্য স্বীকৃতি।
বাংলাদেশের ঝিমিয়ে পড়া ক্রীড়াঙ্গনে প্রাণসঞ্চার করতে এবং কিশোর-কিশোরীদের মাঠমুখী করতে যুগান্তকারী এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। দায়িত্ব গ্রহণের মাত্র আড়াই মাসের মাথায় যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় বাস্তবায়ন করতে যাচ্ছে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’। এই আয়োজনের মূল লক্ষ্য শুধু প্রতিযোগিতা নয়, বরং বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে মেধা যাচাই করে তৃণমূলের প্রতিভাদের বিশ্বমানের ক্রীড়াবিদ হিসেবে গড়ে তোলা।
১২ থেকে ১৪ বছর বয়সী কিশোর-কিশোরীদের জন্য সাজানো এই কার্যক্রমে থাকছে ফুটবল, ক্রিকেট, কাবাডি, অ্যাথলেটিক্স, দাবা, ব্যাডমিন্টন, সাঁতার ও মার্শাল আর্ট। পর্যায়ক্রমে উপজেলা, জেলা ও বিভাগীয় স্তর পেরিয়ে ঢাকার চূড়ান্ত পর্বের মাধ্যমে যা সমাপ্ত হবে। এখন পর্যন্ত ১ লাখ ৬০ হাজার ৭৭৯ জন শিক্ষার্থী নিবন্ধিত হয়েছে, যার মধ্যে ১ লাখ ১৬ হাজার ৬৪৬ কিশোর এবং ৪৪ হাজার ১৩৩ জন কিশোরী। রেজিস্ট্রেশনের দৌড়ে ১৫ হাজার ৩২৪ জন প্রতিযোগী নিয়ে তালিকার শীর্ষে রয়েছে সিলেট জেলা।
২ মে সিলেট জেলা স্টেডিয়ামে এই উৎসবের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি ভার্চুয়ালি সারা দেশের জেলা স্টেডিয়ামগুলোতে উপস্থিত হাজারো প্রতিযোগীর সঙ্গে যুক্ত হয়ে এই নতুন যাত্রার শুভ সূচনা করবেন। এই কার্যক্রমের প্রস্তুতির তথ্য জানাতে এক সংবাদ সম্মেলনে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক প্রতিভাদের ভবিষ্যৎ সুরক্ষায় তিনটি বিশেষ প্রতিশ্রুতির কথা জানিয়েছেন। তিনি জানান, চূড়ান্ত পর্বে নির্বাচিতদের বিকেএসপিতে ভর্তি এবং বিশেষ ক্রীড়া বৃত্তির আওতায় আনা হবে। এ ছাড়া ঢাকার ওপর চাপ কমাতে চট্টগ্রামসহ অন্যান্য আঞ্চলিক বিকেএসপিগুলোকে আধুনিকায়ন করা হচ্ছে।
বাছাই প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে এবং স্বজনপ্রীতি রুখতে মন্ত্রী নিজে একজন সাবেক খেলোয়াড় হিসেবে মাঠ পর্যায়ে তদারকি করবেন বলে সবাইকে আশ্বস্ত করেন। একই সঙ্গে খেলোয়াড়দের নিরাপত্তার জন্য সার্বক্ষণিক মেডিকেল টিম নিয়োজিত থাকবে। অতীতের পরিকল্পনাহীন অর্থ ব্যয় ও সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয়হীনতার অভিযোগ স্বীকার করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা পরিবর্তন আনার চেষ্টা করছি। মন্ত্রণালয় এবং জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ (এনএসসি) এখন হাতে হাত মিলিয়ে কাজ করছে।’
ক্রীড়াঙ্গনের উন্নয়নে সব ভুলত্রুটি শুধরে সম্মিলিতভাবে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করে সাবেক এ ফুটবলার আরও বলেন, ‘আমি মন্ত্রী হিসেবে নয়, একজন খেলোয়াড় হিসেবে এই প্রতিভা বাছাই তদারকি করব।’
What's Your Reaction?