গাছ কাটার প্রতিবাদ করায় শ্যামনগরে চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি মামলা
স্থানীয়রা আরো জানান, ২০২২ সালের ৬ ডিসেম্বর জাইকা অর্থায়নে প্রকল্পটির ঠিকাদার হিসেবে সবুজ খান নিয়োগ পান। কাজ শুরুর সময় নির্ধারিত স্থান হিসেবে যে এলাকা চিহ্নিত করা হয়, সেটি ছিল মন্ত্রণালয়ের অনুমোদিত একটি চিংড়ি মহল। পরবর্তীতে কোনো প্রকার সমঝোতা ছাড়াই তৎকালীন আওয়ামীলীগের ঘনিষ্ঠতা পরিচয় দানকারী সবুজ খান ওই জমি বাঁধা উপেক্ষা করে বালু ভরাট করে দখলে নেন। এ বিষয়ে জেলা প্রশাসকের কাছে অভিযোগ করা হলে তিনি জমি অধিগ্রহণের প্রক্রিয়া সঠিক হয়নি বলে মত দেন। পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার মধ্যস্থতায় ক্ষতিপূরণ দেওয়ার আশ্বাসে কাজ চালিয়ে যান ঠিকাদার। কিন্তু এখনো ক্ষতিপূরণ পরিশোধ করা হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে।
চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম দাবি করেন, ক্ষতিপূরণের দাবিতে তিনি ২০২৪ সালের ৯ ডিসেম্বর জেলা প্রশাসকের কাছে আবেদন করেন, যা তদন্তের জন্য এসিল্যান্ড কার্যালয়ে প্রেরণ করা হয়। এছাড়া ২০২৫ সালের ৫ মার্চ মানববন্ধন ও স্মারকলিপিও দেওয়া হয়।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, ঠিকাদার সবুজ খান এলাকায় ব্যাপক ভূমি দখল, পরিবেশ ধ্বংস এবং জনদুর্ভোগ সৃষ্টি করেছেন। তার ভাষ্যমতে, প্রায় ১৫০-২০০ বিঘা জমি অবৈধভাবে দখল, হাজার হাজার গাছ কাটা, একটি শ্মশানঘাট দখল, এমনকি প্রায় ২০০০ বিঘা জমিতে মৎস্য ও কাঁকড়া চাষের পানির প্রবাহ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। আর-রাদ করপোরেশন কর্তৃপক্ষ দুই দফায় দুই জায়গার চর দখল করে গাছ কেটে ইয়ার্ড তৈরি করেছে। তারা আবারও দুর্গাবাটির ভাঙনকবলিত অংশের চর দখলে নিয়ে গাছ কেটে ফেলে। এলাকাবাসী জানান, সবুজ খান তৎকালীন আওয়ামীলীগ সরকারের প্রভাবশালী মন্ত্রীর ভাগনে পরিচয়ে অবৈধভাবে খোলপেটুয়া নদীর চর দখল করে। কলবাড়ি সেতুসংলগ্ন এলাকার প্রায় ৯০ একর জমি নামমাত্র দামে ইজারা নিয়ে চিংড়ি প্রকল্প গড়ে তোলা হয়। প্রকল্প এলাকার পূর্ব পাশে প্রায় ১০ একর জমিতে অবৈধভাবে বাঁধ নির্মাণ ও ভেকু দিয়ে মাটি কাটার অভিযোগও ওঠে। এতে স্থানীয় পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে দাবি করেন এলাকাবাসী।
চেয়ারম্যানের অভিযোগ, “আমি এসব অনিয়মের বিরুদ্ধে প্রশাসনকে অবহিত করে ঘটনাস্থলে নিয়ে গেলে ঠিকাদারপক্ষ ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে। পরবর্তীতে তদন্তের নামে ডেকে নিয়ে সারাদিন বসিয়ে রেখে রাতে মিথ্যা মামলা রুজু করা হয়।”শ্যামনগর থানার ওসি খালেদুর রহমান বলেন, ২৪ মে ২০২৬ তারিখে চাঁদা দাবিসহ হামলা-ভাঙচুরের কয়েকটি ধারায় থানায় একটি মামলা হয়, মামলা নং ৪৪।
প্রকল্প বাস্তবায়নকারী প্রতিষ্ঠান আর-রাদ করপোরেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. সবুজ আলী খান জানান, বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতার কারনে বর্ষার আগে কাজ শেষ করা যাচ্ছে না।
What's Your Reaction?