বাস চলাচলে বৈষম্য দুর করতে নীলফামারী মালিক সমিতি ও শ্রমিক ইউনিয়নের আল্টিমেটাম

Sep 3, 2026 - 16:29
 0
বাস চলাচলে বৈষম্য দুর করতে নীলফামারী মালিক সমিতি ও শ্রমিক ইউনিয়নের আল্টিমেটাম

মিজানুর রহমান মিলন, নীলফামারী জেলা প্রতিনিধি : রংপুর-দিনাজপুর ও রংপুর-ঠাকুরগাঁও-পঞ্চগড় রুটে নীলফামারীর মালিকদের বাসের সংখ্যা বাড়ানো, সন্ধ্যার পর পর্যাপ্ত বাস চালু এবং যাত্রীসেবার মানোন্নয়নের দাবি জানিয়েছে নীলফামারী জেলা বাস-মিনিবাস মালিক সমিতি ও বাস মিনিবাস শ্রমিক ইউনিয়ন। এসব দাবি বাস্তবায়নে আগামী ১০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময় বেঁধে দিয়েছে সড়ক পরিবহন সংগঠন দুটি।

বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টায় নীলফামারী জেলা বাস-মিনিবাস মালিক সমিতির সৈয়দপুরস্থ প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি তুলে ধরেন সংগঠন দুটির নেতৃবৃন্দ।

সংবাদ সম্মেলনে পরিবহন নেতারা বলেন, রংপুর-দিনাজপুর রুটে রংপুর ও দিনাজপুরের মালিক সংগঠনগুলোর ২৫টি করে মোট ৫০টি বাস চলাচল করছে। বিপরীতে নীলফামারী জেলা বাস-মিনিবাস মালিক সমিতির বাস চলাচল করছে মাত্র ১২টি। দীর্ঘদিন ধরে এ সংখ্যা নির্ধারিত থাকায় যাত্রীসংখ্যা বাড়লেও নীলফামারীর মালিকদের সঙ্গে বৈষম্য করা হচ্ছে। 

তাদের দাবি, রংপুর-দিনাজপুর রুটের দুই প্রান্ত থেকে নীলফামারী জেলা বাস মিনিবাস মালিক সমিতির অন্তত ১০টি করে মোট ২০টি বাস চলাচলের সুযোগ দিতে হবে। একই সঙ্গে রংপুর-ঠাকুরগাঁও রুটের ঠাকুরগাঁও প্রান্ত থেকেও অন্তত দুটি বাসের সিরিয়াল দিতে হবে।

নেতারা বলেন, সৈয়দপুর হচ্ছে উত্তরাঞ্চলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ কেন্দ্র। রংপুর, দিনাজপুর, ঠাকুরগাঁও ও পঞ্চগড়সহ বিভিন্ন জেলার মানুষ এই পথ ব্যবহার করেন। সৈয়দপুরে অন্যান্য এলাকার চাইতে ব্যাংক বীমা, শিল্পকারখানা, ব্যবসা-বাণিজ্য ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থাকায় প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক মানুষ বিভিন্ন গন্তব্যে যাতায়াত করেন। ফলে বিদ্যমান বাস সংখ্যা দিয়ে যাত্রীচাহিদা পূরণ হচ্ছে না।

সংবাদ সম্মেলনে সন্ধ্যার পর রংপুর ও দিনাজপুর থেকে সৈয়দপুরগামী যাত্রীদের দুর্ভোগের বিষয়টি তুলে ধরে পরিবহন নেতারা অভিযোগ করে বলেন, রংপুর মেডিকেল মোড় থেকে রাত ৮টা থেকে ১১টা পর্যন্ত সৈয়দপুর, ওয়াপদামোড় ও রাণীরবন্দরগামী যাত্রীদের আসন দেওয়া হয়না। ফলে তাদেরকে দাড়িয়ে নিজ গন্তব্যে আসতে হয়। একইভাবে দিনাজপুর থেকেও সন্ধ্যার পর সৈয়দপুরগামী বাসের সংকট দেখা রয়েছে। ফলে যাত্রী সেবা বাড়াতে রাতেও নিয়মিত বাস চলাচলের ব্যবস্থা করার দাবি জানানো হয়।

নেতারা আরও বলেন, বন্ধ থাকা সৈয়দপুর-রাজশাহী রুটের ‘মানিক’ এবং নীলফামারী-সৈয়দপুর-বগুড়া রুটের ‘জনতা মানিক’ বাস পুনরায় চালু, নীলফামারী ও সৈয়দপুর থেকে সিরাজগঞ্জ-শাহজাদপুর-পাবনা রুটে বাস চলাচলে বাধা দূর এবং মহাসড়কে অবৈধ অটোরিকশা-সিএনজির চলাচল নিয়ন্ত্রণের দাবিও জানান। 

পরিবহন নেতাদের দাবি, যাত্রীসেবা নিশ্চিত করতে বাসের সংখ্যা ও রুটভিত্তিক সিরিয়াল বৈষম্য দূর করা জরুরি। বিষয়গুলো আগামী ১০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে সমাধানে প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট মালিক সংগঠনগুলোকে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান তারা।

অন্যথায় রংপুর-দিনাজপুর-ঠাকুরগাঁও রুটে বাস চলাচলে কোনো ধরনের বিঘ্ন সৃষ্টি হলে তার দায় নীলফামারী জেলা বাস-মিনিবাস মালিক সমিতি ও বাস শ্রমিক ইউনিয়ন নেবে না বলে জানানো হয়।

সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন নীলফামারী জেলা বাস-মিনিবাস মালিক সমিতির সভাপতি অধ্যক্ষ আব্দুল গফুর সরকার, সাধারণ সম্পাদক শহিদুল হক সরকার, সিনিয়র সহ সভাপতি আনোয়ারুল হাফিজ, সহ সভাপতি মোফাখখার আলী স্বপন, সড়ক সম্পাদক মোস্তফা কামাল, সহ-সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম মজনু ও সাংগঠনিক সম্পাদক আরমান হামিদ, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের সাংগঠনিক সম্পাদক ও নীলফামারী জেলা বাস-মিনিবাস শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম ও সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আলীসহ পরিবহন সংগঠন দুটির অন্যান্য নেতৃবৃন্দ বক্তব্য দেন।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow