সুনামগঞ্জে চিকিৎসার নামে চরম ভোগান্তি

Mar 5, 2026 - 20:09
 0
সুনামগঞ্জে চিকিৎসার নামে চরম ভোগান্তি
ছবি: সংগৃহীত
সুনামগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি: সুনামগঞ্জ ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট সদর হাসপাতালে চিকিৎসকদের চরম অবহেলা ও কর্মস্থলে অনুপস্থিতির কারণে ভেঙে পড়েছে চিকিৎসাসেবা। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী দুপুর ২টা পর্যন্ত ডিউটি থাকার কথা থাকলেও, বেলা ১২টার পর থেকেই ইনডোর (ভর্তি বিভাগ) চিকিৎসকশূন্য হয়ে পড়ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এমনকি জীবন রক্ষাকারী জরুরি বিভাগে আসা রোগীরাও ঘণ্টার পর ঘণ্টা চিকিৎসকের অপেক্ষায় থেকে মানবেতর ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।
সরেজমিনে বুধবার (৪ মার্চ) দুপুরে হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, ইনডোর সেবার দায়িত্বে থাকা সিনিয়র সার্জন ডা. লিপিকা দাস কর্মস্থলে নেই। নিয়ম অনুযায়ী সকাল ৯টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত তার হাসপাতালে থাকার কথা থাকলেও দুপুর ১টার আগেই তিনি হাসপাতাল ত্যাগ করেন। তার ব্যক্তিগত চেম্বার 'আনিসা হেলথকেয়ার'-এ যোগাযোগ করা হলে সেখান থেকে জানানো হয়, তিনি সরকারি ডিউটি সময়ের মধ্যেই ব্যক্তিগত কাজে সিলেটের উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছেন। একই চিত্র দেখা গেছে ইনডোর মেডিকেল অফিসার ডা. নিলুফার ইয়াসমিনের ক্ষেত্রেও। অভিযোগ রয়েছে, তিনি প্রায়ই সকাল ১০টার পর হাসপাতালে আসেন এবং দুপুর ১২টার মধ্যেই কর্মস্থল ত্যাগ করেন। বুধবার দুপুর ১টায় তাকে ফোনে পাওয়া গেলেও তিনি হাসপাতালে ছিলেন না। উল্টো দায়িত্বের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি উত্তেজিত হয়ে সাংবাদিকদের বলেন, "আমি দুপুর ২টা পর্যন্ত থাকতে বাধ্য নই। আপনি আমাকে চার্জ করার কে? আপনার উদ্দেশ্য কী?" হাসপাতালের গাইনি ওয়ার্ডের অবস্থা আরও ভয়াবহ। ভুক্তভোগী
রোগীদের অভিযোগ, দুপুর ১২টার পর কোনো নতুন রোগী ভর্তি হলে তারা তাৎক্ষণিক কোনো বিশেষজ্ঞ চিকিৎসা পান না। অনেক ক্ষেত্রে পরদিন সকাল ১১টা পর্যন্ত জীবনঝুঁকি নিয়ে চিকিৎসকের জন্য অপেক্ষা করতে হয়। এছাড়া আউটডোর সার্জন ডা. লোপা রাণীর বিরুদ্ধেও নির্ধারিত সময়ে চেম্বারে না বসার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এসব অনিয়মের বিষয়ে হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়কের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে ফোনে পাওয়া যায়নি। তবে আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. রফিকুল ইসলামের সাথে কথা বললে তিনি বিষয়টি গুরুত্ব না দিয়ে উল্টো অন্য চিকিৎসকদের ওপর দায় চাপানোর চেষ্টা করেন। দায়িত্বরত চিকিৎসকদের এমন আচরণ ও অনুপস্থিতির বিষয়ে কোনো ¯পষ্ট ব্যাখ্যা দিতে পারেননি তিনি। 
চিকিৎসা নিতে আসা এক রোগীর স্বজন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "সরকার ডাক্তারদের বেতন দেয় আমাদের সেবা করার জন্য, কিন্তু তারা সরকারি হাসপাতালকে কেবল হাজিরা দেওয়ার জায়গা বানিয়ে ফেলেছেন। তাদের মূল মনোযোগ প্রাইভেট ক্লিনিকে।" সুনামগঞ্জের সচেতন মহল ও ভুক্তভোগী রোগীরা অবিলম্বে এই অরাজকতা বন্ধে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও জেলা প্রশাসনের কঠোর হস্তক্ষেপ এবং তদন্ত সাপেক্ষে অভিযুক্ত চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow