বেকার যুবকদের কর্মসংস্থানে বিভিন্ন প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে : প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক
নীলফামারী জেলা প্রতিনিধি : যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো.আমিনুল হক বলেছেন,শিক্ষিত বেকার যুবক ও যুব মহিলাদের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করতে ফ্রিল্যান্সিং, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), মোবাইল সার্ভিসিং ও ড্রাইভিংসহ বিভিন্ন দক্ষতাভিত্তিক প্রশিক্ষণ কর্মসূচি হাতে নিয়েছে সরকার। এসব কর্মসূচি আগে থাকলেও তা জনগনের কাছে বিষয়টি পরিস্কার ছিল না। কিন্তু বর্তমান সরকার রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব নেওয়ার পর কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে ওইসব কর্মসূচি বাস্তবায়নে কাজ করে যাচ্ছে। এছাড়া জ্বালানি সংকট মোকাবেলায় বায়োগ্যাস প্ল্যান্ট স্থাপনের মাধ্যমে যুবকদের স্বাবলম্বী করা হচ্ছে। তাদেরকে উৎসাহিত করতে সহজ শতে ক্ষুদ্র ঋণও দেওয়া হচ্ছে।
গতকাল শনিবার (৩১ অক্টোবর) দুপুর সাড়ে ১২ টায় নীলফামারীর সৈয়দপুর উপজেলার কামারপুকুর ইউনিয়নের আইসঢাল হাজিপাড়ায় যুব উন্নয়ন থেকে প্রশিক্ষণ নেওয়া মো. মাহবুবার রহমান বকুলের পরিবেশবান্ধব ও জ্বালানি সাশ্রয়ী বায়োগ্যাস প্ল্যান্ট পরিদর্শন উপলক্ষে আলোচনা অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকারের প্রধান লক্ষ্য শিক্ষিত বেকারদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা। এ লক্ষ্যেই যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় ইতোমধ্যে বেশ কিছু কর্মসূচি ও পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। এর মধ্যে ফ্রিল্যান্সিং, এআই প্রযুক্তির মাধ্যমে দক্ষতা উন্নয়ন, মোবাইল সার্ভিসিং ও ড্রাইভিং প্রশিক্ষণ উল্লেখযোগ্য। পাশাপাশি উন্নত প্রশিক্ষণের মাধ্যমে যুবকদের বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরিতেও কাজ করছে সরকার।
জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় বায়োগ্যাসের সম্ভাবনার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, দেশের বিভিন্ন এলাকায় বাড়িতে বাড়িতে গবাদিপশু, হাঁস-মুরগি ও খামার রয়েছে। এসব খামারের বর্জ্য কাজে লাগিয়ে বায়োগ্যাস পøান্ট স্থাপন করা গেলে দেশের জ্বালানি সংকট অনেকটাই মোকাবিলা করা সম্ভব। একই সঙ্গে তরুণ ও নারীরা বায়োগ্যাস উৎপাদনের মাধ্যমে স্বাবলম্বী হতে পারবেন। উৎপাদিত গ্যাস আশপাশের বাড়িতে সরবরাহ করেও তাঁরা মুনাফা অর্জন করতে পারবেন। তিনি আরও বলেন, যুবকদের অগ্রাধিকার দিয়ে একটি সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে সরকার কাজ করছে। যুবসমাজের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করার পাশাপাশি তাঁদের উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তোলার বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
সৈয়দপুরের উন্নয়ন ও ক্রীড়া অবকাঠামো প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, সৈয়দপুর কোনো পিছিয়ে পড়া উপজেলা নয়। বর্তমান সরকার খেলাধুলাকে পেশাদারত্বের পর্যায়ে নিয়ে যেতে কাজ শুরু করেছে। এর মাধ্যমে নতুন প্রতিভাবান খেলোয়াড় খুঁজে বের করা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী নির্দেশনা দিয়েছেন, দেশের ৪ হাজার ৫৯৯টি ইউনিয়নে খেলার মাঠ তৈরি করতে। সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নে কাজ চলছে।
তিনি জানান, খুব দ্রুত জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের স্টেডিয়ামগুলো আধুনিকায়ন করে খেলাধুলার উপযোগী করে তোলা হবে। এ লক্ষ্যে একটি প্রকল্পও হাতে নেওয়া হয়েছে।
খেলাধুলাকে মাদকমুক্ত সমাজ গঠনের অন্যতম হাতিয়ার উল্লেখ করে আমিনুল হক বলেন, বর্তমান সরকার খেলাধুলাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে। যুবসমাজকে মাদক থেকে দূরে রাখতে খেলাধুলাকে বাধ্যতামূলক করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আগামী ২০২৭ সালের শিক্ষাক্রমে চতুর্থ শ্রেণি থেকে খেলাধুলা’নামে একটি নতুন বই পাঠ্যক্রমে যুক্ত করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, পাঠ্যপুস্তকে খেলাধুলাকে অন্তর্ভুক্ত করার মাধ্যমে নতুন প্রজন্মকে খেলাধুলায় আগ্রহী করে তোলা সম্ভব হবে। আগামীর বাংলাদেশ যাদের ওপর নির্ভর করছে, সেই প্রজন্মকে মাদকমুক্ত সমাজ উপহার দেওয়াই সরকারের অন্যতম লক্ষ্য।
এরআগে বায়োগ্যাস পøান্ট পরিদর্শন উপলক্ষে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক। দক্ষ যুব গড়বে দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ এ শ্লোগানকে সামনে রেখে আয়োজিত আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন নীলফামারী জেলা প্রশাসক মো. হুমায়ুন কবির,
সৈয়দপুর রাজনৈতিক জেলা বিএনপির সভাপতি আলহাজ্ব আব্দুল গফুর সরকার, যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর নীলফামারী কার্যালয়ের উপ পরিচালক মো. দিলগীর আলম ও উপকারভোগী মো. মাহবুবার রহমান বকুল প্রমুখ।
শেষে পরিবেশ বান্ধব ও জ্বালানি সাশ্রয়ী বায়োগ্যাস প্ল্যান্ট স্থাপন প্রকল্পের আওতায় পাঁচজনকে বায়োগ্যাস স্থাপনের জন্য ঋণের চেক বিতরণ করা হয়। প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক ওই ঋণের চেক সুবিধাভোগীদের হাতে তুলে দেন।
এসময় অন্যান্যদেও মধ্যে সৈয়দপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারাহ ফাতেহা তাকমিলা, সৈয়দপুর থানার অফিসার ইনচার্জ রেজাউল করিম রেজা, সৈয়দপুর রাজনৈতিক জেলা বিএনপির সহ সভাপতি এ্যাড. এস এম ওবায়দুর রহমান, সুমিত কুমার আগরওয়ালা নিক্কি, উপজেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হাফিজুল ইসলাম হাফিজ, সাংগঠনিক সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম, বিএনপি নেতা শরিফুল ইসলাম, মিজানুর রহমান মুকুল প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
What's Your Reaction?