শান্তিগঞ্জে দেড়বছর ধরে পানি সরবরাহ প্রকল্পের কাজ বন্ধ
সুনামগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি : গ্রাম পর্যায়ে সুপেয় পানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে গ্রহণ করা সরকারি একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প ঠিকাদারের অবহেলায় দেড় বছর ধরে ঝুলে আছে। ফলে শান্তিগঞ্জ উপজেলার শিমুলবাঁক এলাকায় প্রায় ৩০০ পরিবার বিশুদ্ধ পানির সংকটে চরম দুর্ভোগে পড়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানাযায়, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের আওতায় সারাদেশে নিরাপদ পানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে একটি বৃহৎ প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এর অংশ হিসেবে সুনামগঞ্জের শাল্লা, শান্তিগঞ্জ ও জগন্নাথপুরসহ বিভিন্ন উপজেলায় কমিউনিটি পর্যায়ে সাবমার্সিবল নলকূপ, পানির ট্যাংক ও পাইপলাইনের মাধ্যমে নিরাপদ পানি সরবরাহের জন্য ১০টি প্রকল্প গ্রহণ করা হয়। প্রতিটি প্রকল্পের মাধ্যমে প্রায় ৩০০ পরিবারকে পাইপলাইনের মাধ্যমে সুপেয় পানি সরবরাহ করার কথা। কিন্তু সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উদাসীনতা এবং বাস্তবায়নকারী ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের অবহেলায় একাধিক প্রকল্পের কাজ এখনো অসমাপ্ত রয়েছে। ফলে গ্রামীণ পানি সরবরাহ ব্যবস্থার সম্প্রসারণ ও প্রাকৃতিক দুর্যোগপ্রবণ এলাকায় নিরাপদ পানির উৎস স্থাপনের লক্ষ্য ব্যাহত হচ্ছে। সময়মতো কাজ শেষ না হওয়ায় সংশ্লিষ্ট এলাকার বাসিন্দারা এখনও নিরাপদ পানির সুবিধা থেকে বঞ্চিত। জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর সূত্রে জানাযায়, শান্তিগঞ্জ উপজেলার ডুংরিয়া, গণিগঞ্জ ও শিমুলবাঁক এলাকায় তিনটি পানি সরবরাহ প্রকল্প গ্রহণ করা হয়। প্রতিটি প্রকল্পে সাবমার্সিবল নলকূপ, পানির ট্যাংক ও বৈদ্যুতিক ব্যবস্থাসহ জলাধার স্থাপনে প্রায় আড়াই কোটি টাকা বরাদ্দ রয়েছে। এর মধ্যে ডুংরিয়া ও শিমুলবাঁক গ্রামের প্রকল্প দুটি বাস্তবায়নের দায়িত্ব পায় আল জুবায়ের ট্রেডার্স নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। ২০২০ সালে শুরু হওয়া সাত বছর মেয়াদি এই প্রকল্পের প্রথম ধাপেই পানি সরবরাহ চালু হওয়ার কথা থাকলেও এখনো কাজ শেষ হয়নি। বিশেষ করে গত বছরের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকে প্রকল্পটির কাজ পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে।
এদিকে প্রকল্পের মেয়াদ চলতি বছরের জুনে শেষ হওয়ার কথা থাকলেও কাজের অগ্রগতি না থাকায় প্রকল্প নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, শিমুলবাঁক গ্রামে সাবমার্সিবল নলকূপ ও পানির ট্যাংক স্থাপন করা হলেও পাইপলাইনের মাধ্যমে পানি সরবরাহ এখনো চালু করা হয়নি। ঠিকাদার অসমাপ্ত কাজ রেখে এলাকা ছেড়ে চলে গেছেন। সরেজমিনে শিমুলবাঁক গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, সাবমার্সিবল নলকূপ ও পানির ট্যাংক স্থাপন করা হলেও প্রকল্পের বাকি কাজ দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ রয়েছে। মাহবুব মিয়া নামের স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, অনেক দিন হলো শিমুলবাঁক গ্রামের ৩০০ পরিবারের জন্য পানির লাইন টানা হয়েছে। অথচ পানির কোনো ব্যবস্থা হচ্ছেনা। এলাকার কোনো টিউবওয়েলেও পানি উঠে না। আমরা আশা করেছিলাম এই প্রকল্পের সুফল পাবো কিন্তু কাজের কাজ দেখছি না।
শিমুলবাঁক ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শাহীনুর রহমান বলেন, কাজ অসমাপ্ত রেখে ঠিকাদার পালিয়ে গেছে। আমি সংশ্লিষ্ট দপ্তরের অনেকবার বলেছি কিন্তু তারা অসামাপ্ত কাজ সমাপ্ত করছে না। এলাকার মানুষ প্রতিদিন ভোগান্তির কথা এসে বলছেন। আশাকরি কর্তৃপক্ষ বিষয়টি গুরুত্ব দিবেন।
এদিকে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান আল জুবায়ের ট্রেডার্সের সংশ্লিষ্টদের সাথে যোগাযোগ করা হলেও বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।
জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী সৈয়দ খালেদুল ইসলাম বলেন, ঠিকাদার কাজ অসমাপ্ত রেখেছিল। এরজন্যে ঠিকাদারকে পানিশমেন্টের আওতায় আনা হয়েছে। চলতি বছরে জুনে মেয়াদ শেষ তাই অনেক চেষ্টা করে আবারও কাজে যুক্ত করা হয়েছে।
ঠিকাদার জানিয়েছে ডুংরিয়া গ্রামের কাজ শেষ করে শিমুলবাঁকের কাজ শেষ করবে।
What's Your Reaction?