নলতা আর.বি নার্সিং কেয়ার ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থীদের ভাতার টাকা আত্মসাতে বদহজম!

Mar 13, 2026 - 21:46
 0
নলতা আর.বি নার্সিং কেয়ার ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থীদের ভাতার টাকা আত্মসাতে বদহজম!
ছবি: সংগৃহীত

ন্যাশনাল ডেস্ক: সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার নলতা কলেজ রোডে অবস্থিত আর.বি নার্সিং কেয়ার ইনস্টিটিউটের পরিচালক রাজন হোসেনের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের সরকারি ভাতার টাকা আত্মসাতের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, বাংলাদেশ সরকারের দক্ষতা উন্নয়নমূলক প্রকল্প “অঝঝঊঞ দ্বিতীয় সার্কেল (ঊইঞ)”-এর আওতায় প্রশিক্ষণরত শিক্ষার্থীদের জন্য বরাদ্দকৃত ভাতার অর্থ কৌশলে আত্মসাৎ করা হয়েছে।

জানা গেছে, ইনফরমাল সেক্টর ইন্ডাস্ট্রি স্কিল কাউন্সিল (ওঝওঝঈ) এর তত্ত্বাবধানে পরিচালিত অঝঝঊঞ দ্বিতীয় সার্কেল (ঊইঞ) কর্মসূচি সরকারের একটি গুরুত্বপূর্ণ দক্ষতা উন্নয়ন প্রকল্প। এই প্রকল্পের মাধ্যমে তরুণ-তরুণীদের বিভিন্ন কারিগরি ও কর্মমুখী প্রশিক্ষণের পাশাপাশি ভাতা প্রদান করা হয়।

জানা যায়, নলতা আর.বি নার্সিং কেয়ার ইনস্টিটিউটের ৯২ জন শিক্ষার্থীর জন্য ভাতার টাকা বরাদ্দ আসে। নিয়ম অনুযায়ী প্রশিক্ষণ ভাতার একটি অংশ কর্তনের পর প্রতিটি শিক্ষার্থীর জন্য প্রায় ১০ হাজার ৫৬০ টাকা পাওয়ার কথা ছিল। এ বিষয়ে ২০২৪ সালের ১০ নভেম্বর ৫৭.০০.০০০০.০৪৮.১৮.০০৯.২২ নম্বর স্মারকে সিনিয়র সহকারী সচিব মোছা. শাহনাজ মিথুন মুন্নী-এর স্বাক্ষরে এই অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হয়।

অভিযোগ উঠেছে, ইনস্টিটিউটের পরিচালক রাজন হোসেন শিক্ষার্থীদের ফোন করে নানা ধরনের ভুল তথ্য দিয়ে তাদের ব্যাংক চেকে স্বাক্ষর নিতে বাধ্য করেন। এরপর সেই চেক ব্যবহার করে শিক্ষার্থীদের ভাতার টাকা উত্তোলন করে আত্মসাৎ করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরা। গত বৃহস্পতিবার শিক্ষার্থীদের হুমকি দিয়ে জোরপূর্বক ব্যাংক একাউন্ট থেকে টাকা উত্তোলন করে নেন রাজন। এছাড়া তার অফিস সহকারী নুপুর নামের এক নারীকে দিয়ে মোবাইল ফোনে মামলাসহ বিভিন্ন ভয়ভীতি প্রদর্শন করা হয়।

এতেই শেষ নয়। ঘটনার পর শিক্ষার্থীদের আরও চাপে রাখতে পরিচালক রাজন হোসেনের স্বাক্ষরিত একটি নোটিশ জারি করা হয়, যেখানে উল্লেখ করা হয়, কোনো শিক্ষার্থী যদি এই টাকা ব্যাংক থেকে উত্তোলন করেন, তবে তার বিরুদ্ধে সরকারি মামলা করা হবে, ব্যাংক একাউন্ট ব্লক করে দেওয়া হবে এবং সার্টিফিকেট বাজেয়াপ্ত করা হবে।

শিক্ষার্থীদের দাবি, এ ধরনের নোটিশ সম্পূর্ণ নিয়মবহির্ভূত, ভয়ভীতি প্রদর্শন ও ক্ষমতার অপব্যবহারের সামিল। এতে শিক্ষার্থীদের মধ্যে চরম আতঙ্ক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

এছাড়া নোটিশে আরও উল্লেখ করা হয়, যেসব শিক্ষার্থী সরকারি টাকা আত্মসাৎ করেছে বা ফেরত দিতে অনিচ্ছুক তাদের তালিকা প্রকাশ করা হবে। এতে শিক্ষার্থীদের নাম ব্যবহার করে তাদের সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করার চেষ্টা করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

ভুক্তভোগী কয়েকজন শিক্ষার্থী নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, আমাদের বলা হয়েছিল এটি শুধু আনুষ্ঠানিকতার জন্য চেকে স্বাক্ষর নিতে হবে। পরে জানতে পারি আমাদের ভাতার টাকা তুলে নেওয়া হয়েছে। প্রতিবাদ করলে আমাদের ভয় দেখানো হয়।

এ ঘটনায় স্থানীয়ভাবে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। শিক্ষার্থী ও সচেতন মহল দ্রুত বিষয়টি তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে আর.বি নার্সিং কেয়ার ইনস্টিটিউটের পরিচালক রাজন হোসেন জানান, টাকা ভুল করে বিভিন্ন একাউন্টে গেছে। আমাকে দায়িত্ব দিয়েছে তাই টাকা ফেরত নিচ্ছি। তবে কথার একপর্যায়ে রাজন জানান, আমরা যাদের কাছ থেকে টাকা নিয়েছি তাদের আবার ফেরত দিব। আপনারা এটা নিয়ে কিছু করেন না। 

বিষয়টি নিয়ে অ্যাসেট প্রজেক্টের উপ-প্রকল্প পরিচালক মো. সবুজ আলমের ব্যবহারিত মোবাইল নাম্বারে একাধিকবার কল দিলে আলাপ কলটি গ্রহণ না করায় বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।

এদিকে বিষয়টি জানা জানি হওয়ায় কয়েকজন শিক্ষার্থীকে টাকা ফেরত দিয়েছেন আর.বি নার্সিং কেয়ার ইনস্টিটিউটের পরিচালক রাজন হোসেন। 

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow