সুনামঞ্জের দিরাইয়েৱ জগদলে হাসপাতাল আছে, সেবা নেই : ভোগান্তিতে ৫০ হাজার মানুষ
সুনামগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি : সুনামঞ্জের দিরাই উপজেলার পূর্বাঞ্চলের জগদল ও কুলঞ্জ ইউনিয়ন এবং পাশের জগন্নাথপুর উপজেলার চিলাউড়া ইউনিয়নের অন্তত ৫০ হাজার মানুষের উন্নত চিকিৎসার সেবার একমাত্র প্রতিষ্ঠান জগদল ২০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতাল।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানাযায়, ২০০৬ সালে ২০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন তৎকালীন জাতীয় সংসদের হুইপ এডভোকেট ফজলুল হক আছপিয়া। ২০১৩ সালে সীমিত আকারে সেবা কার্যক্রম শুরু হয়। ২০২০ সালে ১৭টি পদ সৃষ্টি করে চিকিৎসকসহ প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ দিয়ে পুরোদমে সেবা কার্যক্রম শুরু হয়। সরেজমিনে দেখা গেছে, হাসপাতালের মনোরম পরিবেশ ও সুসজ্জিত বিশাল কমপ্লেক্স, যাবতীয় সরঞ্জাম বিদ্যমান থাকলেও শুধু মাত্র চিকিৎসকের অভাবে চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন হাওরপাড়ের গরিব-অসহায় জনগণ। জগদল গ্রামের বাসিন্দা সমাজকর্মী হেলাল আহমেদ বলেন, অনেক ঢাক-ঢোল বাজিয়ে ২০০৬ সালে আমাদের হাসপাতাল যাত্রা শুরু করে। উদ্বোধনের পর কিছুদিন ডাক্তার নার্স দেখা গেলেও এখন সুন্দর বিল্ডিং ছাড়া আর কিছু নাই। হাসপাতালের মনোরম পরিবেশ, উন্নতমানের বিল্ডিং এবং সুন্দর পরিবেশ থাকলেও ডাক্তার ও নার্স না থাকায় আমরা চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত। আমরা উপজেলা প্রশাসনের সাথে যোগাযোগ করেও কোনো সুরাহা পাচ্ছি না। বর্তমান সরকারের প্রতি আমাদের আবেদন- প্রয়োজনীয় চিকিৎসক ও জনবল নিয়োগ দিয়ে আমাদের হাওরবাসীর উন্নত সেবা প্রাপ্তির পথ সুগম করুন। এলাকার বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষ জানান, আমরা জানি দুই জন ডাক্তার এখানে পোস্টিং আছেন কিন্তু তারা কোনো দিন হাসপাতালে আসেননি। শুনেছি দুই ডাক্তারের এখানে পোস্টিং থাকলে একজন ঢাকা ও একজন সিলেটে কর্মরত আছেন। আমাদের হাসপাতালে পোস্টিং আর থাকেন ঢাকা সিলেটে সেটা আমাদের বুঝে আসছে না। আমরা চাই আমাদের হাসপাতালের ডাক্তার আমাদের এলাকার সাধারণ জনগণকে চিকিৎসা সেবা প্রদান করুন। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. প্রশান্ত দাস তালুকদার জানান, ২০০৬ সালে জগদল হাসপাতালেরভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করা হয়, ২০১৩ সালে স্বল্প আকারে চিকিৎসা সেবা চালু হয়। ২০২০ সালে ১৭টি পদ সৃষ্টি করে এর সেবা দান শুরু হয়।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা শংকর চন্দ্র দাস বলেন, জগদল হাসপাতালে দুই জন চিকিৎসক নিয়োগ থাকলেও তারা সংযুক্তি একজন ঢাকা ও একজন সিলেটে কর্মরত রয়েছেন। শূন্যপদে চিকিৎসকসহ প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ দানের বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে লিখিতভাবে জানিয়েছি।
সুনামগঞ্জের সিভিল সার্জন ডা. জসিম উদ্দিন বলেন, বিষয়টি আমি জানি কিন্তু কিভাবে তারা এখান থেকে সংযুক্তিতে সিলেট-ঢাকায় সেবা দিচ্ছেন সে বিষয়ে আমি কিছুই জানিনা। সুনামগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য নাছির উদ্দীন চৌধুরী বলেন, আমি ঢাকায় আছি, এলাকায় এসে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এবং জেলার সিভিল সার্জন মহোয়ের সাথে আলাপ করে দিরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও জগদল হাসপাতালসহ প্রতিটি ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্রে চিকিৎসকসহ প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ দানের ব্যবস্থা করবো।
What's Your Reaction?