ঝড়ের কবলে দেবহাটায় বসতবাড়ি ও ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি
দেবহাটা (সাতক্ষীরা) প্রতিনিধি : আকস্মিক ঝড়ে সাতক্ষীরার দেবহাটা উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা ঘটেছে। দমকা হাওয়ায় অসংখ্য বসতবাড়ি ও দোকানের টিনের চাল উড়ে গিয়ে লন্ডভন্ড হয়ে যায়। এতে বিপাকে পড়েছেন নিম্ন আয়ের বহু পরিবার ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা।
স্থানীয় সুত্রে জানা গেছে, সোমবার রাত ৯টার দিকে হঠাৎ করে ঝড় শুরু হলে কয়েক মিনিটের মধ্যেই পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নেয়। প্রবল বাতাসে অনেক বাড়ির চাল উড়ে গেছে এবং গাছপালা ভেঙে পড়ে। এমনকি সখিপুর মোড়ে প্রায় ২০টি দোকানের চাল উড়ে যায়। পাশাপাশি চিনেডাঙ্গা, কোড়া, কাজিমহল্লা, মোহাম্মাদালীপুর, টাউনশ্রীপুর সহ বিভিন্ন গ্রামে ঘরের ছাউনি লন্ডভন্ড হয়েছে বলে জানা গেছে। এছাড়া সখিপুর মোড় থেকে উপজেলাগামী সড়কের পাশে^ কয়েকটি স্থানে গাছ ভেঙ্গে পড়ে বৈদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। পরে রাস্তার উপরে পড়ে থাকা গাছ ও গাছের ডাল ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা অপসারন করে। এরিপোর্ট লেখা পর্যন্ত রাস্তায় চলাচলের উপযুক্ত হলেও দীর্ঘ ২৪ ঘন্টার মধ্যে অনেক এলাকায় বিদ্যুৎ সংযোগ দিতে পারেনি সংশ্লিষ্ঠ বিভাগ। এতে চরম দূর্ভোগে পড়েছে এসব এলাকার সর্বস্থরের মানুষ।
ক্ষতিগ্রস্ত চিনেডাঙ্গা গ্রামের বাসিন্দা চম্পা পারভীন বলেন, সোমবার রাতে আকষ্মিক ঝড়ে তার বসতবাড়ির ছাউনি উড়ে যায়। এতে ঘরের মধ্যে থাকা মালামাল পানিতে ভিজে ব্যপক ক্ষতিগ্রস্থ হয়। এঘটনার পর থেকে পরিবারটি এখন অসহায় জীবন যাপন করছে। একই অবস্থা মোহাম্মাদালীপুর গ্রামের আরশাদ আলীর কন্যা বিলকিস পারভীনের। ঝড়ে তার ঘরের ছাউনি উড়িয়ে নিয়ে যায়। যা পরবর্তীতে খুজে পাওয়া যায় নি। পরিবারটি এখন অসহায় অবস্থায় খোলা আকাশের নিচে বসবাস করছে।
সখিপুর মোড়ের দোকানদার সবুজ হোসেন বলেন, দোকানের চাল উড়ে যাওয়ায় ফ্রিজের মালামাল নষ্ট হয়েছে। ব্যবসায় বড় ক্ষতির মুখে পড়েছি। সামনে ঈদ, আর এই সময় ক্ষতির মুখে পড়েছি। আমার মত অনেক ব্যবসায়ী এমন ক্ষতির মুখে পড়েছে।
সখিপুর ইউপি চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলাম বলেন, ঝড়ের কবলে পড়ে সখিপুর ইউনিয়নের বেশ কিছু এলাকায় ব্যাবায়িক প্রতিষ্ঠান ও বসতবাড়ি ক্ষয়ক্ষতির মধ্যে পড়েছে বলে জানতে পেরেছি। ঝড়ের এতো তীব্রতা ছিল যে কোন কিছুর বোঝার আগে সব কিছু লন্ডভন্ড করে দেয়। অনেকের ঘরের ছাউনি উড়ে গিয়ে আসবাবপত্র ভিজে নষ্ট হয়েছে। আমাদের সাধ্য অনুযায়ী ক্ষতিগ্রস্থদের পাশে থেকে সহযোগীতার চেষ্টা অব্যহত রয়েছে।
তবে এখন পর্যন্ত কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণে কাজ চলছে এবং ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার মিলন সাহা বলেন, আমাদের কাছে আবেদন করলে যাচাই বাছাই করে ত্রাণ ও পুনর্বাসন শাখা থেকে তাদের পাশে দাড়ানো চেষ্টা করা হবে।
What's Your Reaction?