২৪ ঘণ্টার মধ্যে স্বাভাবিক তেল সরবরাহের দাবি পেট্টোল পাম্প মালিক সমিতির
নীলফামারী জেলা প্রতিনিধি: আগামী ২৪ ঘন্টার মধ্যে পাবর্তীপুর রেলওয়ে হেড ওয়েল ডিপো থেকে সকল পাম্পে স্বাভাবিক তেল সরবরাহ করতে হবে। অন্যথায় অনির্দিষ্টকালের জন্য জেলার সকল পেট্রোল পাম্প বন্ধ করার আল্টিমেটাম দিয়েছেন নীলফামারী জেলা পেট্টোল পাম্প মালিক সমিতি।
মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) নীলফামারী জেলা পেট্টোল পাম্প মালিক সমিতির এক জরুরী সভায় ওই আল্টিমেটাম দেওয়া হয়। সৈয়দপুর শহরের একটি হোটেলে আয়োজিত ওই সভায় সংগঠনের সদস্য ও পাম্প মালিকদের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। সভা থেকে আগামী ২৪ ঘন্টার মধ্যে জেলার প্রতিটি পাম্পে স্বাভাবিক তেল সরবরাহের দাবি জানানো হয়। অন্যথায় সকল পাম্প অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ করে দেয়ার হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়। একই দাবিতে সংগঠনের পক্ষ থেকে নীলফামারী জেলা প্রশাসক বরাবরে একটি স্মারকলিপিও প্রদান করা হয়।
জানতে চাইলে নীলফামারী জেলা পাম্প মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ও সৈয়দপুরের আইয়ুব ব্রাদার্স ফিলিং স্টেশনের স্বত্ত্বাধিকারী আলহাজ্ব একরামুল হক বলেন, জেলার সদর, ডোমার, ডিমলা, জলঢাকা, কিশোরগঞ্জ ও সৈয়দপুর উপজেলায় ৩৮টি ফিলিং স্টেশন রয়েছে। গত কয়েক সপ্তাহ ধরে তেলের ডিপো থেকে নীলফামারী জেলার পেট্টোল পাম্পগুলোতে চাহিদার অনেক কম পরিমাণে তেল দেওয়া হচ্ছে। অথচ সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে কোন রেশনিং ব্যবস্থা চালু নেই। কিন্তু আমরা যখন ডিপো থেকে তেল নিতে যাচ্ছি, তখন সপ্তাহের দুই দিন প্রতিটি পেট্টোল পাম্পকে দুই হাজার থেকে তিন হাজার লিটার করে তেল সরবরাহ দেওয়া হচ্ছে। আবার সরকারিভাবে দূরপাল্লার যানবাহনে আশি লিটার, ছোট যানবাহনে এক হাজার টাকার এবং মোটরসাইকেলে ২০০ টাকার করে তেল সরবরাহ দিতে বলা হচ্ছে। এ অবস্থায় অপেক্ষাকৃত কম সরবরাহ করা তেল আমরা প্রতিদিন স্বল্প সংখ্যক যানবাহনে দিতে পারছি। ফলে বিভিন্ন যানবাহনের চালকরা প্রতিনিয়ত তেলের জন্য পাম্পে এসে ধর্ণা দিচ্ছেন। এতে করে যানবাহন মালিক তথা চালকদের সঙ্গে পাম্পের কর্মচারীদের তুমুল বাকবিতন্ডার ঘটনা ঘটছে। অনেক সময় যানবাহনের চালক কিংবা মালিকরা মব সৃষ্টি করে পাম্পের মালিক কর্মচারিদের ওপর চড়াও হয়ে মারপিট করছেন। গত ২৩ মার্চ নীলফামারী জেলার জলঢাকা উপজেলার টেঙ্গনমারিতে ভাই ভাই ফিলিং স্টেশনে তেল সরবরাহ নিয়ে সৃষ্ট সংঘর্ষে পাম্পের এক কর্মচারী মারাত্মক আহত হয়েছে। এছাড়াও সৈয়দপুর শহরের খালেক ফিলিং স্টেশনে তেল নিতে আসা এক গাড়ির মালিকের সঙ্গে পাম্প কর্মচারীদের তুমুল বচসা হয়। প্রায় প্রতিটি পাম্পে তেল নিতে এসে গাড়ির মালিক কিংবা চালকদের সঙ্গে এমন ঘটনা ঘটছে। এ অবস্থা চলতে থাকলে যে কোন সময় বড় ধরণের অনাকাঙ্খিত ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, এমন পরিস্থিতিতে পাম্প পরিচালনা করা কষ্টকর হয়ে পড়েছে । এসব বিষয়ে প্রশাসনিকভাবে জরুরী পদক্ষেপ গ্রহন না করা হলে পাম্প বন্ধ রাখা ছাড়া আর কোন বিকল্প উপায় নেই।
What's Your Reaction?