সৈয়দপুরে সাড়ে ৪ হাজার লিটার জ্বালানি তেল উদ্ধার : ৭ জনকে অর্থদন্ড
মিজানুর রহমান মিলন, নীলফামারী জেলা প্রতিনিধি : সারাদেশে যখন জ্বালানি তেলের হাহাকার, পাম্পগুলোর সামনে ঘন্টার পর ঘন্টা দাড়িয়ে যখন যানবাহন চালকরা পেট্রোল,অকটেন ও ডিজেল পাচ্ছেনা, ঠিক তখনি নীলফামারীর সৈয়দপুরে মেসার্স রোকেয়া এলপিজি ফিলিং স্টেশনের গোডাউন থেকে সাড়ে ৪ হাজার লিটার জ্বালানি তেল উদ্ধার করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানিক দল।
শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) দিবাগত রাত সাড়ে ৯ টায় সৈয়দপুর শহরের ধলাগাছ এলাকার সৈয়দপুর - রংপুর বাইপাস সড়কের পাশে অবস্থিত মেসার্স রোকেয়া এলপিজি ফিলিং স্টেশনে অভিযান চালিয়ে ওইসব জ্বালানি তেল উদ্ধার করা হয়।
এসময় অবৈধভাবে জ্বালানি তেল সংরক্ষণ ও অন্যত্র পাচারের প্রস্তুতিকালে পাম্প মালিকের পুত্রসহ ৭ জনের ২ লাখ ৬০ হাজার টাকা অর্থদন্ড করেছেন আদালত। এছাড়া জব্দ করা জ্বালানি তেল সরকারি মূল্যে বিক্রি করে সেসব অর্থ রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা দেওয়া হয়েছে।
রাত ১২টার আদালতের এসব রায় প্রদান করেন সৈয়দপুর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট মো. সাব্বির হোসেন। অভিযান চলাকালে সৈয়দপুর থানা পুলিশের উপ পরিদর্শক মামুনুর রশীদ মামুন ও ঋষিকেশ রায়সহ সঙ্গীয় ফোর্স উপস্থিত ছিলেন।
সুত্র জানায়, বর্তমান পরিস্থিতিতে সারাদেশে যখন জ্বালানি তেল সংগ্রহে মানুষের দূর্ভোগ চরমে, ঠিক তখনি সিন্ডিকেটের মাধ্যমে মেসার্স রোকেয়া এলপিজি ফিলিং স্টেশনের মালিকের নেতৃত্বে একটি চক্র পেট্রোল, অকটেন ও ডিজেলের সংকট সৃষ্টি করে অবৈধভাবে বেশি লাভের মাধ্যমে বাইরে বিক্রি করে আসছিল। এমন অভিযোগের বিষয়টি জানতে পেরে সৈয়দপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারাহ ফাতেহা তাকমিলার নির্দেশে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট মো. সাব্বির হোসেনের নেতৃত্বে থানা পুলিশ ওই ফিলিং স্টেশনটির কার্যক্রমে নজরদারি শুরু করে। পরে অবৈধভাবে তেল মজুদ ও অন্যত্র পাচারের তথ্যের বিষয়টি নিশ্চিত হয়ে ওই পাম্প মালিকের মালিকানাধীন পাশের একটি গোডাউনে অভিযান চালানো হয়। অভিযান চলাকালে সেখানে তেলের ট্যাঙ্কলরি ও একটি কাভার্ডভ্যানের ভেতরে অবৈধভাবে স্থাপন করা মিনি পাম্পের মাধ্যমে পেট্রোল ও অকটেন স্থানান্তরের প্রমাণ মেলে। আশেপাশে থাকা তেল বোঝাই একাধিক ড্রাম ও জ্যারকিন পাওয়া যায়। উদ্ধার হওয়া এসব তেলের মধ্যে রয়েছে ৩ হাজার ৯১৭ লিটার পেট্রোল, ২৫০ লিটার অকটেন ও ৩৩৮ লিটার ডিজেল। এছাড়া তেল স্থানান্তরের জন্য অন্যান্য সরঞ্জামও পাওয়া অভিযানে।
পরে সেখানে অবৈধভাবে তেল সংরক্ষণ এবং অন্যত্র পাচারের চেষ্টার দায়ে মেসার্স রোকেয়া এলপিজি ফিলিং স্টেশনের মালিক আব্দুর রহমানের মো. রফিকুল ইসলামকে (২৮) দুই লাখ টাকা অর্থদণ্ড অনাদায়ে ৬ মাসের কারাদণ্ডের আদেশ দেন। এছাড়া এসব অবৈধ কাজে জড়িত ও সহযোগিতা করার দায়ে শহরের পুরাতন বাবুপাড়া এলাকার মো. মেরাজ হোসেন (২০), হাতিখানা এলাকার মঈনুদ্দীন (৪৮), সিরাজগঞ্জের জাহাঙ্গীর (৩৫), সাগর (৩৫), আলমিন শেখ (২৪) এবং ঠাকুরগাঁওয়ের মেরাজ ইসলামকে (২৮) ১০ হাজার টাকা করে মোট ৬০ হাজার জরিমানা, অনাদায়ে ৩ দিনের কারাদণ্ড প্রদান করা হয়।
এ ঘটনায় আটককৃতদের মধ্যে একজন এসএসসি পরীক্ষার্থী থাকায় তাকে সতর্ক করে ছেড়ে দেওয়া হয়। পরে দন্ডপ্রাপ্তরা জরিমানার টাকা পরিশোধ করলে ভ্রাম্যমাণ আদালত তাদের মুক্তি দেন।
এদিকে রাতেই জব্দ করা ওইসব জ্বালানি তেল শহরের সুৃমনা ফিলিং স্টেশনে সরকারি মূল্যে ৪ লাখ ৯৩ হাজার ৪০৭ টাকায় বিক্রি করে সেসব টাকা সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া হয়।
জানতে চাইলে সৈয়দপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট মো. সাব্বির হোসেন বলেন, জব্দকৃত জ্বালানি তেলের পরিমাণ নির্ধারণ করে সরকারি মূল্যে সেসব বিক্রি করা হয়েছে। বিক্রির ওইসব টাকা সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া হয়েছে।
সৈয়দপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারাহ ফাতেহা তাকমিলা বলেন, সরকারি নির্দেশনায় অবৈধভাবে জ্বালানি তেল মজুদ, পরিবহন ও বাজারজাতকরণের বিরুদ্ধে প্রশাসনের কঠোর অবস্থান অব্যাহত রয়েছে। এ ধরনের অভিযান নিয়মিতভাবে পরিচালনা করা হবে। তিনি বলেন, যারা জ্বালানি তেলের কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে পরিবেশ অস্থিতিশীল করছে, তাদের কোনভাবেই ছাড় দেওয়া হবেনা। এজন্য সকলের সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।
What's Your Reaction?