কুলিয়া ইউপির জমি দখল করে স্থাপনা নির্মাণ, বড় অংকের টাকা লেনদেনের অভিযোগ!

Apr 2, 2026 - 23:55
 0
কুলিয়া ইউপির জমি দখল করে স্থাপনা নির্মাণ, বড় অংকের টাকা লেনদেনের অভিযোগ!
কুলিয়া ইউপির জমি দখল করে স্থাপনা নির্মাণ, বড় অংকের টাকা লেনদেনের অভিযোগ!

দেবহাটা (সাতক্ষীরা) প্রতিনিধি: সাতক্ষীরার দেবহাটা উপজেলার ১ নম্বর কুলিয়া ইউনিয়ন পরিষদের মালিকানাধীন জমি দখল করে গাছ কেটে অবৈধভাবে স্থাপনা নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে। পরিষদের ১৯৮০ সালে রোপণকৃত আম, নারকেল ও সুপারিসহ বিভিন জাতের গাছ কেটে তড়িঘড়ি করে গত কয়েকদিন ধরে এই নির্মাণযজ্ঞ চলছে। এই দখল প্রক্রিয়ায় পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ও ৫ নম্বর ওয়ার্ডের গ্রাম পুলিশের বিরুদ্ধে বড় অঙ্কের আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ উঠেছে।

​সরেজমিনে জানা গেছে, উত্তর কুলিয়ার মৃত জিয়াদ আলীর ছেলে মাসুদ হোসেন ও দক্ষিণ কুলিয়ার আব্দুর কাদিরের ছেলে কামরুল ইসলাম পরিষদের জমি দখল করে সেখানে স্থাপনা নির্মাণ করছেন। গত তিন-চার দিন ধরে চলা এই কাজে বৃহস্পতিবারও সেখানে নতুন করে টিউবওয়েল বসানোসহ বিভিন্ন নির্মাণকাজ চলেছে। পরিষদের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের গ্রাম পুলিশ ইব্রাহিম হোসেনের কাছে মূল ফটকের চাবি থাকায় তার সহায়তায় অনায়াসেই ভেতরে নির্মাণসামগ্রী প্রবেশ করানো হচ্ছে। 

পরিষদের ২৬ বছর ধরে নির্বাচিত সংরক্ষিত মহিলা ইউপি সদস্য ফাতেমা খাতুন ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জানান, যে গাছগুলো কাটা হয়েছে সেগুলো পরিষদেরই সম্পদ। ১৯৮০ সালে রোপণ করা বিভিন্ন ফলের গাছ কেটে এখন সেখানে স্থাপনা করা হচ্ছে। যদিও এবিষয়ে বিস্তারিত জানাতে অপারগতা প্রকাশ করেন তিনি।

​স্থানীয় সূত্রে অভিযোগ উঠেছে, এই অবৈধ দখল প্রক্রিয়ায় সহায়তা করার বিনিময়ে পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান প্রবাস চন্দ্র মন্ডল ৫ লাখ টাকা গ্রহণ করেছেন। এছাড়া পরিষদের মূল গেট দিয়ে নির্মাণসামগ্রী প্রবেশের সুযোগ করে দিতে গ্রাম পুলিশ ইব্রাহীম খলিলকে দেওয়া হয়েছে ৫০ হাজার টাকা। অভিযুক্ত মাসুদ ও কামরুল ওই এলাকায় চিহ্নিত ভূমিদস্যু হিসেবে পরিচিত হওয়ায় এবং পরিষদের কর্তাব্যক্তিদের ম্যানেজ করে তারা এই জমি দখলে মরিয়া হয়ে উঠেছেন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এই ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেন পরিষদটির একাধিক ইউপি সদস্য।

​এদিকে, পরিষদ সংলগ্ন এলাকার বাসিন্দারা এই ঘটনায় চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। 

স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, পরিষদের নিজস্ব গেট দিয়ে মালামাল ঢুকছে এবং গাছ কেটে দোকান হচ্ছে, এটি প্রশাসনের না জানার কথা নয়। এখানে রক্ষকই ভক্ষকের ভূমিকা পালন করছে। তাদের অভিযোগ, জনপ্রতিনিধি ও গ্রাম পুলিশের যোগসাজশ ছাড়া এমন কাজ অসম্ভব। তারা দ্রুত এই অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করে পরিষদের সম্পদ রক্ষার দাবি জানান।

এবিষয়ে বক্তব্য জানতে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান প্রবাস চন্দ্র মন্ডল ও গ্রাম পুলিশ ইব্রাহীমের সাথে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তারা ফোন রিসিভ করেননি।

​এ বিষয়ে ইউনিয়ন পরিষদের সচিব ফারুক হোসেনের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি মুঠোফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন। 

এবিষয় দেবহাটা উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মিলন সাহা বলেন, সরকারি সম্পত্তি দখল করে কোনো প্রকার অবৈধ স্থাপনা নির্মাণের সুযোগ নেই। তিনি বলেন, যদি কেউ এটি করে থাকে তবে তদন্ত সাপেক্ষে তা উচ্ছেদ করা হবে। একইসঙ্গে এই ঘটনায় যে বা যারাই জড়িত থাক না কেন, তাদের প্রত্যেককে আইনের আওতায় আনা হবে।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow